চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যা: চন্দন দাসের জবানবন্দি
Categories:

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় আসামি চন্দন দাস স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি জানান, রিপন দাস, ওম দাস, রনবসহ কয়েকজন মিলে সাইফুলকে খুন করেন। হত্যার ভিডিওতে আসামিরা চেনা যাচ্ছে। ঘটনার পেছনে হত্যার কারণ এখনও পরিষ্কার নয়, তবে তদন্ত চলছে।
চট্টগ্রাম, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪: চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। হত্যার অন্যতম প্রধান আসামি চন্দন দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে এই জবানবন্দি দেন চন্দন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান জানান, গত শুক্রবার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলে চন্দন দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর আদালতে উপস্থিত হলে তিনি হত্যার পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি জানান, আইনজীবী সাইফুল ইসলামের ওপর হামলা চালানোর সময় রিপন দাস এবং ওম দাসসহ অন্যরা তাকে কোপায়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চন্দন দাসের জবানবন্দি অনুসারে, হত্যাকাণ্ডের সময় সাইফুল ইসলামকে বঁটি, কিরিচ, লাঠি, বাটাম দিয়ে পেটানো হয়। রিপন দাসের হাতে ছিল বঁটি, আর চন্দন দাসের হাতে ছিল কিরিচ। ঘটনার সময় চন্দন হেলমেট পরে ছিলেন, তার পরনে ছিল কমলা রঙের গেঞ্জি এবং কালো প্যান্ট। রিপন দাসও একটি হেলমেট পরেছিলেন, তার গায়ে নীল রঙের গেঞ্জি ও জিনস প্যান্ট ছিল। ভিডিও ফুটেজে এই দুই আসামির পরিচয় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
গত বুধবার, কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে চন্দন দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। চন্দন দাস একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, এবং তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এক নম্বর আসামি। তার স্বীকারোক্তির পর, পুলিশ তদন্তের গতি ত্বরান্বিত করেছে। যদিও চন্দন দাস জানিয়েছেন, তিনি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ১০-১২ জনের মধ্যে কিছু পরিচিত, কিছু অজানা ব্যক্তিকে চেনেন, তবে তিনি হত্যার কারণ বা কার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে, তা জানাতে পারেননি।
এদিকে, সাইফুল ইসলামের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর, আরও পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা, কাজকর্মে বাধা দেওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছেন, মোট ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১০ জন হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পরে, হত্যার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়, যেখানে সাইফুল ইসলামকে মারধর করতে দেখা যায়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চন্দন দাস, রিপন দাস, ওম দাস এবং অন্যান্য আসামিরা মিলে এই নৃশংসতা ঘটিয়েছে। পুলিশ এখনও তদন্তে রয়েছে এবং হত্যার পেছনে লুকানো কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া, ২ ডিসেম্বর পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় দুই আসামির জন্য ওকালতনামা দেওয়ার পর আইনজীবীদের বিক্ষোভের মুখে চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি নেজাম উদ্দিন পদত্যাগ করেন। এই পদত্যাগের ঘটনায় আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং তারা আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
চন্দন দাসের জবানবন্দি ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইনজীবীদের ওপর হামলা, বিচারকর্মী ও পুলিশের প্রতি সহিংসতা আইনগত এবং সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, এবং এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারিখ: ১০.১২.২০২৪