বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন বন্ধ হোক, এবার গর্জে উঠল মহামেডান স্পোর্টিং

সোমবার, শতাব্দী প্রাচীন মহামেডান ক্লাবের সভাপতি বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, “এই অত্যাচার বন্ধ হওয়া উচিত।” ক্লাবের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনে ডেপুটেশন জমা দিতে যাবে। ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান ক্লাবও এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছে।
বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন বন্ধ হোক, এবার গর্জে উঠল মহামেডান স্পোর্টিং

সোমবার, শতাব্দী প্রাচীন মহামেডান ক্লাবের সভাপতি বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, “এই অত্যাচার বন্ধ হওয়া উচিত।” ক্লাবের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনে ডেপুটেশন জমা দিতে যাবে। ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান ক্লাবও এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছে।

কলকাতা, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৪: সোমবার, কলকাতার এক শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের সভাপতি বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা এই ঘটনার নিন্দা করছি। যত দ্রুত সম্ভব এই অত্যাচার বন্ধ হওয়া উচিত।” তার এই বক্তব্যের পর, ক্লাবের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনে যাবে এবং সেখানে একটি ডেপুটেশন জমা দেওয়া হবে।

এটি এমন একটি সময়ের মধ্যে এসেছে যখন ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের উপর ‘পরিকল্পিত’ নির্যাতন বিষয়ে তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবও বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে, এবং এই ক্লাবের অধিকাংশ সমর্থকের পূর্বপুরুষেরা পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশের অধিবাসী ছিলেন। তারা এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও দিয়েছে।

এবার, মহামেডান ক্লাবও এই ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছে। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে এপার বাংলার মানুষের মনও কাঁদছে। মহামেডান ক্লাবের পক্ষ থেকে এই সমালোচনাটি আরও একবার স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে যে, সীমান্তের ওপারে সংখ্যালঘুদের ওপর যে অত্যাচার চলছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন আরও তীব্র হতে থাকে, বিশেষ করে ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেপ্তারের পর থেকে। এই ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ভয়াবহ আকারে শুরু হয়, এবং এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এমন সময়ে, ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি বাংলাদেশে পৌঁছান। তিনি সোমবার সীমান্তের ওপারে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, উপাসনাস্থলে হামলা, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের বিদেশ সচিবদের সাথে বৈঠক করেন।

এই বৈঠকে ভারতীয় বিদেশ সচিব বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চান, তাদের ভূমিকাটি কী হবে, বিশেষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। ভারত সরকার এরই মধ্যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এবং এসব বিষয়ে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া, সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের ঘটনায় যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাতে ভারতের পক্ষ থেকে আরও তৎপরতা দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমান্তের ওপারে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের সম্পত্তি এবং উপাসনাস্থলে হামলা বন্ধ করা, এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের সরকারকে এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারত অনুরোধ জানায়।

এদিকে, কলকাতার ক্লাবগুলি, বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গল এবং মহামেডান, বারবার সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে, এবং তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। এসব ক্লাবের সমর্থকরা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ, এবং এর মোকাবিলায় ভারতকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এছাড়া, লাল-হলুদ শিবিরের পক্ষ থেকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ভারত সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। ভারতীয় ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, তারা কোনওভাবেই সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার মেনে নেবে না এবং তারা চাইছেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

এই পরিস্থিতিতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর, দুই দেশের বিদেশ সচিবদের মধ্যে বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে ভারত এবং বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারবে এবং তারা কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারে, সেটি নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশকে আলোচনা করতে দেখা গেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি এবং বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে, এবং এই বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, কলকাতার ক্লাবগুলো, যাদের সমর্থকদের অধিকাংশই পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তারা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে, এবং এ বিষয়ে ভারত সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ জরুরি।

এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, কারণ এই ঘটনায় শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে, এই সংকট দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

তারিখ: ১০.১২.২০২৪