সুনামগঞ্জে কিশোরকে গ্রেপ্তার, ফেসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগ, বাড়িতে হামলা

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ফেসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিশোরটির পোস্টের মন্তব্যের কারণে উত্তেজিত জনতা মিছিল করে, এবং ২০-২৫টি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা চালায়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
সুনামগঞ্জে কিশোরকে গ্রেপ্তার, ফেসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগ, বাড়িতে হামলা

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ফেসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিশোরটির পোস্টের মন্তব্যের কারণে উত্তেজিত জনতা মিছিল করে, এবং ২০-২৫টি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা চালায়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

সুনামগঞ্জ, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৪: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এ ঘটনায় কিশোরটিকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আজ বুধবার, দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইনে উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত ইবনে সফিউল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ওই কিশোর ফেসবুকে এক ব্যক্তির পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পবিত্র কোরআনের অবমাননা করে এমন একটি পোস্ট করে। স্থানীয় উত্তেজিত জনতা খবর পেয়ে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে মিছিল করতে থাকে এবং ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জনতার মিছিলের ফলে গ্রামের পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে, এবং রাতের মধ্যে উত্তেজিত জনতা ওই কিশোরের বাড়িসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২০-২৫টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালায়। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে থাকলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই কিশোরের বাবা দীর্ঘদিন ধরে ওমানপ্রবাসী। তার পরিবারে মা এবং বড় ভাই ছাড়া আর কেউ থাকে না। কিশোরটির বড় ভাই স্নাতক প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন, আর কিশোরটি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। তাদের গ্রামে মোট ৮০-৯০টি পরিবার বাস করে, যার মধ্যে দুটি পরিবার ছাড়া সবাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এক গ্রামবাসী বলেন, “একজনের কারণে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের সবটা ভেঙে গেল কেন?”

এদিকে, গ্রামে বেশ কিছু বাড়িতে তালা ঝুলছে এবং প্রায় সব বাড়ির অবস্থাও সংকটজনক ছিল। নৈনগাঁও মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবদুর করিম হোসাইন বলেন, তারা গ্রামবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। তিনি জানান, এই ঘটনার পর আর কোনো উত্তেজনা না ছড়িয়ে পড়ার জন্য তারা সচেষ্ট আছেন।

ঘটনার পর সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস মিয়া ও পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করা হবে এবং গ্রামে এখন আর কোনো সমস্যা হবে না। তারা স্থানীয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দোয়ারাবাজার থানার ওসি মো. জাহিদুল হক জানান, বর্তমানে গ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, কিশোরটির বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করার পর তাকে আটক করা হয় এবং বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এই মামলাটি তদারকি করছে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে এবং তারা পরবর্তী সময়ে এমন কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সতর্ক থাকবে। সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ এবং সেনাবাহিনী গ্রামে শান্তি বজায় রাখতে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এছাড়া, গ্রামবাসীর মধ্যে উত্কণ্ঠা এবং আতঙ্কের মধ্যেও তারা শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে। এক গ্রামবাসী বলেন, “আমরা চাই বিচার হোক, কিন্তু আমাদের শান্তি ও নিরাপত্তা যেন বজায় থাকে।”

এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোন নিহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, তবে হামলার কারণে কিছু বাড়ি ও দোকানপাটের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ জানায়, তারা সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার জন্য কাজ করছে।

তারিখ: ১৫.১২.২০২৪