আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনায় তিন পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত, গ্রেপ্তার ৭

ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলায় সাতজন গ্রেপ্তার। চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তিনজন সাময়িক বরখাস্ত। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাটি নিন্দা করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন।
আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনায় তিন পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত, গ্রেপ্তার ৭

ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলায় সাতজন গ্রেপ্তার। চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তিনজন সাময়িক বরখাস্ত। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাটি নিন্দা করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন।

আগরতলা, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৪: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশপ্রধান কে কিরণ কুমার এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামক স্থানীয় একটি সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং ভাঙচুর চালান। তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও পুড়িয়ে দেন। ঘটনার পরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনসহ অন্যান্য উপ-হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।

এই ঘটনার জেরে চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনজন উপপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে কাজ থেকে বিরত রেখে সদর দপ্তরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ভবনে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগেও সেখানে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা ছিল, তবে তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বিক্ষোভের সময় একদল যুবক বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করে। আমি এই ঘটনার নিন্দা জানাই। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সকলের রয়েছে, তবে এই ধরনের আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না।”

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগেই হয়েছিল। কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের কাছাকাছি এলাকায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করে। এই সংগঠনগুলোর মধ্যে হিন্দুত্ববাদী এবং অন্যান্য সংগঠনও ছিল।

এদিকে, হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি আজ মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশপ্রধান কিরণ কুমার জানান, কর্মসূচি রোধ করতে আখাউড়া অঞ্চলে পুলিশের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই ধরনের হামলা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকারক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কূটনৈতিক ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং উত্তেজনা এড়াতে উভয়পক্ষকেই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তারিখ: ০৩.১২.২০২৪