বেনাপোল বন্দরে যাত্রী গমনাগমন কমেছে, ভিসা নিয়ে শঙ্কা
Categories:

আজ বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল প্রায় ফাঁকা। গতকাল পেট্রাপোল সীমান্তে ভারতীয় জনতা পার্টির বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে যাত্রী এবং পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে। ভারত সরকারের ভিসা নিষেধাজ্ঞার পর থেকে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে, যা ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও কমতে পারে।
বেনাপোল, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৪: আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটা, যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল প্রায় ফাঁকা ছিল। যেখানে সাধারণত যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়, সেখানে আজ তেমন কোনো ভিড় ছিল না। অধিকাংশ কাউন্টারেও কর্মকর্তা হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন। শ্রমিকদেরও তেমন কোনো ব্যস্ততা ছিল না। ভারত থেকে যাত্রীরা কিছুটা শঙ্কা ও সংশয়ের মধ্যে বেনাপোল সীমান্ত পার হচ্ছিলেন।
হীরালাল দাস, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা, ১০ দিন আগে কলকাতার বারাসাতে আত্মীয়বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে গতকাল ব্যাপক আন্দোলন হওয়ার পর তিনি কোনো কিছু কিনে না ফিরে, শুধু পরনের পোশাক নিয়েই বেনাপোলে ফিরেছেন। তিনি আরও বলেন, “বিগত দিনগুলোতে বেনাপোল বন্দরে ভিড় ছিল, কিন্তু আজ মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ইমিগ্রেশন শেষ হয়ে গেছে।”
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ ঢাকাপাড়ার বাসিন্দা বুদ্ধদেব বাগচি, যিনি বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন, আজ ভারতে ফিরে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে বাংলাদেশে এসে বন্দরে খুব ভিড় ছিল, কিন্তু আজ বন্দরে কিছুই নেই, বুঝতে পারছি না কেন এত ফাঁকা।”
বেনাপোল বন্দরের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একটি অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এই বিক্ষোভের ফলে পেট্রাপোল সীমান্তে দেশ দুটি মধ্যে আমদানি-রপ্তানি ও যাত্রী যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিক্ষোভ শেষ হলে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী এবং পণ্য চলাচল শুরু হয়, তবে এর প্রভাব আজও দেখা যাচ্ছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা একটা পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষ যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন ৭৭৫ জন এবং ভারতে থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন ৭৬৯ জন। এই সংখ্যা গতকাল চার হাজার ছিল, কিন্তু জুলাই মাস থেকে ভারত সরকারের ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধিকাংশ ভারতীয় ভিসার মেয়াদ রয়েছে এবং এরপর যাত্রী সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভূঞা বলেন, “দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যাত্রী কমতে পারে। ভারতীয় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
পণ্য আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। বেলা দুইটা পর্যন্ত পেট্রাপোলের ওপারে ভারতের পণ্য বোঝাই ৬০০টি ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল। বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে, তবে পেট্রাপোলে আন্দোলনের তেমন প্রভাব পড়েনি।”
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রাশেদুল সজীব নাজির জানান, “দুপুরের পর থেকে ট্রাকের সংখ্যা বাড়ে, তাই তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।” তিনি আরও জানান, গতকাল ২৪৩টি ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে এবং ২০১টি ট্রাক রপ্তানি হয়েছে। আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত ১০৫ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং ১০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
বন্দর সূত্রে আরও জানা যায়, আজ বেলা দুইটার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন, তবে গতকাল যাত্রী সংখ্যা প্রায় সাত থেকে আট হাজার ছিল। ১৫ ডিসেম্বরের পর, ভারতীয় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যাত্রী যাতায়াত আরও কমে যাবে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তারিখ: ০৩.১২.২০২৪