তালিবানি গনতন্ত্র: আইনজীবী পিটাও, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিন স্থগিত
Categories:

বাংলাদেশে সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন মঙ্গলবারও স্থগিত থাকে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁকে আরও এক মাস জেলবন্দি থাকতে হবে। তার আইনজীবীর ওপর হামলা হওয়ায, তাঁর পক্ষে কেউ আদালতে দাঁড়াননি। তার জামিন আবেদন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালতে স্থগিত রাখা হয় এবং তাঁকে আরও এক মাস কারাবাসে থাকতে হবে।
চট্টগ্রাম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৪: চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালতে স্থগিত রাখা হয় এবং তাঁকে আরও এক মাস কারাবাসে থাকতে হবে। ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে চট্টগ্রাম আদালতে পেশ করা হলেও তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়নি। মঙ্গলবার জামিন শুনানির কথা থাকলেও তা ২ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতে তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণের প্রধান আইনজীবী রমেন রায়ের বাড়িতে সোমবার রাতে হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইসকন কলকাতা শাখার মুখপাত্র রাধারমণ দাস এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘চিন্ময়কৃষ্ণের আইনজীবীদের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং এতে আতঙ্কিত হয়ে কেউ তাঁর পক্ষে সওয়াল করতে চান না।’’
চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে এদিন সকাল থেকে নিরাপত্তা কড়াকড়ি করা হয়েছিল। প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়, তবে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে আদালতে হাজির করা হয়নি। আদালত চত্বরে চট্টগ্রামের আইনজীবীদের একাংশ মিছিল করেন। আদালতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিমউদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘‘কোনো আইনজীবী চিন্ময়কৃষ্ণের পক্ষে না দাঁড়ানোর বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য নেই।’’
চিন্ময়কৃষ্ণ দাস বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ আয়োজন করেছেন। তিনি ‘সনাতনী জাগরণ মঞ্চ’-এর অন্যতম মুখপাত্র। চট্টগ্রামে তাঁর ডাকে আয়োজিত সমাবেশে বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু মানুষ অংশ নেন। এর আগেও তাঁকে সমর্থন জানিয়ে ৫৩ জন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময়কৃষ্ণের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট এলাকায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার উপর ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। এই ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদিঘির মাঠে এক সমাবেশে এই কাজের পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আদালতে এখনও বিস্তারিত বিচার হয়নি।
চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতারি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ বাড়ছে। এই আবহে ইসকনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন চিন্ময়কৃষ্ণের পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ভারতও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক থেকে বলা হয়েছে, ‘‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা সে দেশের সরকারের দায়িত্ব।’’ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘‘আমরা আশা করি চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার হবে এবং তাঁর আইনি অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।’’
এই ঘটনাগুলি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের সংখ্যালঘু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীদের ওপর হামলা, মামলার পিছিয়ে যাওয়া, এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সংখ্যালঘুদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন করে তুলেছে। সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষিত করা আজ সময়ের দাবি।
তারিখ: ০৩.১২.২০২৪