ইউনূসের পরিকল্পনাতেই গণহত্যা: আমেরিকার সভায় ভার্চুয়াল বক্তৃতায় হাসিনা

ভারতের মাটি থেকে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের জন্য মুহাম্মদ ইউনূসকে দুষেছেন। তিনি ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে গণহত্যার পরিকল্পনার জন্য দায়ী করেন। হাসিনা নিজের ইস্তফার কারণ হিসেবে গণহত্যা এড়ানোর ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেন।
ইউনূসের পরিকল্পনাতেই গণহত্যা: আমেরিকার সভায় ভার্চুয়াল বক্তৃতায় হাসিনা

ভারতের মাটি থেকে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের জন্য মুহাম্মদ ইউনূসকে দুষেছেন। তিনি ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে গণহত্যার পরিকল্পনার জন্য দায়ী করেন। হাসিনা নিজের ইস্তফার কারণ হিসেবে গণহত্যা এড়ানোর ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেন।

নিউ ইয়র্ক, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৪: ভারতের মাটি থেকে আমেরিকায় আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাসিনা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংখ্যালঘু নিপীড়ন এবং ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের উপর হওয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি দাবি করেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুনিপুণ পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে গণহত্যা চালাচ্ছে। তারেক রহমান, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র ও বিএনপি নেতা, লন্ডন থেকে এই ষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন হাসিনা।

হাসিনা বলেন, ‘‘আজ আমার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মুহাম্মদ ইউনূস ছাত্র সমন্বয়কদের নিয়ে একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে গণহত্যায় লিপ্ত। তারেক রহমান বলেছেন, যদি মৃত্যু চলতেই থাকে, তাহলে সরকার টিকে থাকবে না।’’ তিনি দাবি করেন, এই পরিকল্পনার মূলে থাকা ব্যক্তিরাই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন এবং সংখ্যালঘুদের উপর হওয়া হামলার পিছনেও তাদের হাত রয়েছে।

গত ৫ অগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, গণহত্যা এড়ানোর জন্য এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি পদত্যাগ করেন। ইস্তফার পরে তিনি ভারত চলে আসেন। দিল্লিতে অবস্থানকালীন হাসিনা নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘আমি গণহত্যা চাইনি। ক্ষমতায় থাকতে চাইলে গণহত্যা হত। আমার নিরাপত্তারক্ষীরা যদি গণভবনে গুলি চালাতেন, তবে বহু মানুষ মারা যেত। আমি সেই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যই সরে দাঁড়িয়েছি।’’

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার বক্তব্যে উঠে এসেছে তার ইস্তফার পেছনের কারণ। তিনি দাবি করেন, তার জীবন নিয়েও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। নিরাপত্তারক্ষীদের সতর্কতায় তিনি জীবনের ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম হন। তবে, দেশের জনগণের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যই তিনি পদত্যাগ করেন।

নিউ ইয়র্কের সভায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, মন্দির, গির্জা এবং ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের উপর হওয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘‘কেন সংখ্যালঘুদের উপর এমন হামলা হচ্ছে? কেন আক্রান্ত হচ্ছে ধর্মীয় স্থানগুলি?’’ তিনি সংখ্যালঘুদের প্রতি চালানো অত্যাচার বন্ধের আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে এই বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়, তিনি সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর তাকে অভিনন্দন জানান। মঙ্গলবারের বক্তব্যে ট্রাম্পের সুরেই তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি চলছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’’

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্থানের উপর হামলার প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি একদিকে নিজের ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন, অন্যদিকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য মুহাম্মদ ইউনূস এবং তারেক রহমানকে দায়ী করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তার মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশের বর্তমান অস্থিরতার মূলে থাকা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

তারিখ: ০৩.১২.২০২৪