বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, আগরতলায় সহকারী হাই কমিশনে বিক্ষোভ

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন অফিসে বিক্ষোভ করে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি। জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। বিশাল পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, আগরতলায় সহকারী হাই কমিশনে বিক্ষোভ

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন অফিসে বিক্ষোভ করে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি। জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। বিশাল পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

আগরতলা, ০২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন এবং সনাতনী ধর্মগুরু চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন অফিসে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি বিক্ষোভ চালিয়েছে। এদিন বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আগুনে পুড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ত্রিপুরা পুলিশের বিশাল বাহিনী ও টিএসআর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সমিতির এক মহিলা বিক্ষোভকারী জানান, বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত হিন্দু সম্প্রদায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাছাড়া বিনা কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এই অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার হিন্দুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। হিন্দুদের ঘরবাড়ি, মন্দির, ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগানো এবং লুটপাটের ঘটনা বারবার ঘটছে। চিন্ময় প্রভুর মুক্তি দাবি করে সমিতি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি তাদের দাবি পূরণ না হয় তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।

এদিকে, ধর্মনগর দিঘীর পাড়ে নেতাজি মূর্তির পাদদেশে চিন্ময় প্রভুর মুক্তি এবং বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা দাবি জানান, বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

উদয়পুর মহাকুমার ব্রহ্মাবাড়িতে অনুষ্ঠিত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির আরেকটি বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েকশ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং চিন্ময় প্রভুর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন। পরে ব্রহ্মাবাড়ি থেকে গোমতী জেলার জেলাশাসক কার্যালয় পর্যন্ত এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

এদিকে, আগরতলার ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জাসওয়াল গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনের ওপর আক্রমণ অত্যন্ত দুঃখজনক। কূটনৈতিক ও কনসুলার সম্পত্তিকে কোনো অবস্থাতেই লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।” পাশাপাশি, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ভারতের অন্যান্য স্থানে অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এই পরিস্থিতিতে, সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চিন্ময় প্রভুকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। অন্যথায়, তারা আরো বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ জারি রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

তারিখ: ০৩.১২.২০২৪