বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বিরোধী মিছিলে একজোট বিজেপি-তৃণমূল

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে চন্দ্রকোনা রোডে আয়োজিত মিছিলে বিজেপি ও তৃণমূল নেতারা একসঙ্গে অংশ নেন। হিন্দু সেবা সমিতির ডাকা এই মিছিল অরাজনৈতিক দাবি করলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সনাতনী ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন দুই দলের নেতারা।
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বিরোধী মিছিলে একজোট বিজেপি-তৃণমূল

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে চন্দ্রকোনা রোডে আয়োজিত মিছিলে বিজেপি ও তৃণমূল নেতারা একসঙ্গে অংশ নেন। হিন্দু সেবা সমিতির ডাকা এই মিছিল অরাজনৈতিক দাবি করলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সনাতনী ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন দুই দলের নেতারা।

মেদিনীপুর, ০২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন এবং সনাতনী নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোডে এক মিছিল আয়োজিত হয়। রবিবার বিকেলে হিন্দু সেবা সমিতির ডাকা এই মিছিলে প্রথমবারের মতো বিজেপি ও তৃণমূল নেতাদের একসঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়। আয়োজকরা দাবি করেছেন, এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কর্মসূচি, যার লক্ষ্য প্রতিবেশী দেশে হিন্দুদের উপর চলা অত্যাচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা।

মিছিল শুরু হয় বজরংবলী মন্দিরের সামনে থেকে এবং চন্দ্রকোনা রোডের বাসস্ট্যান্ড, চৌরাস্তা মোড়, পঞ্চায়েত অফিস হয়ে বিদ্যাসাগর মঞ্চের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে আরএসএসের ঘনিষ্ঠ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা পারিজাত চক্রবর্তী, বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিশ্র, বিজেপির এসসি মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মদন রুইদাস এবং তৃণমূলের জেলা সম্পাদক রাজীব ঘোষ, ব্লক নেতা জ্ঞানাঞ্জন মণ্ডলসহ উভয় দলের একাধিক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন এলাকার সনাতনী হিন্দুরা, যারা দলমত নির্বিশেষে স্লোগানে কণ্ঠ মেলান।

হিন্দু সেবা সমিতির চন্দ্রকোনা রোড শাখার সভাপতি মিথিলেশ মিশ্র বলেন, “বাংলাদেশের সনাতনী হিন্দুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আমরা এই মিছিলের আয়োজন করেছি। আমরা স্থানীয় সনাতনী হিন্দুদের ফোনে ও সামাজিক মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, এবং তাদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।”

মিছিলের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ করা এবং চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মুক্তি নিশ্চিত করা। এছাড়াও, বাংলাদেশের ঘটনায় ভারত সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। মিছিলের সময়ে স্লোগানে প্রতিবেশী দেশে ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

তৃণমূলের জেলা সম্পাদক রাজীব ঘোষ বলেন, “এটি একটি অরাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল। প্রতিবেশী দেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে আমরা মিছিলে অংশ নিয়েছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।” একই দাবি করেন তৃণমূলের ব্লক নেতা জ্ঞানাঞ্জন মণ্ডল। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, “এই কর্মসূচিতে ধর্মীয় রাজনীতি ঢোকানোর কোনও প্রয়োজন নেই।”

বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিশ্র বলেন, “হিন্দু সেবা সমিতি সকলকে ডেকেছিল, তাই আমরা অংশ নিয়েছি। এতে কোনও রাজনৈতিক বিষয় নেই। বরং, এটি হিন্দু ঐক্যের প্রতীক।”

হিন্দু সেবা সমিতি ওই অঞ্চলের একটি পুরনো এবং প্রভাবশালী সংগঠন। তবে তাদের কর্মসূচিতে তৃণমূল নেতাদের যোগদান রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমবারের মতো এই সংগঠনের কোনও কর্মসূচিতে বিজেপি ছাড়া অন্য কোনও দলের প্রতিনিধিত্ব দেখা গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।

মিছিল শেষে আয়োজকরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল হিন্দু ঐক্যের বার্তা দেওয়া এবং প্রতিবেশী দেশে সনাতনী হিন্দুদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। আমরা তা করতে পেরেছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হিন্দু সেবা সমিতির এই কর্মসূচি এবং তাতে দুই বিপরীতমুখী দলের নেতাদের একত্রিত হওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতারা একে অরাজনৈতিক বলে দাবি করলেও, রাজনৈতিক মহলে আলোচনা থেমে নেই। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি শুধুই অরাজনৈতিক কর্মসূচি, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ?

এতসব বিতর্কের মাঝেও মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে একমত হয়েছেন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতি সমর্থন এবং তাদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার প্রয়াসে এই মিছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তারিখ: ০৩.১২.২০২৪