বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, সীমান্তে বিক্ষোভে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি
Categories:

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে পেট্রাপোল সীমান্তে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়। জাতীয় পতাকা হাতে পদযাত্রা, জয় শ্রীরাম ধ্বনি ও কালো বেলুন উড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। রাজ্যের বিরোধী নেতা সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধের দাবি তুলেছেন।
পেট্রাপোল, ০২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্তে সনাতনী হিন্দু সংগঠনের ডাকে একটি বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কর্মসূচি শুরু হয় দুপুরে সীমান্তের মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর বক্তব্যের মাধ্যমে। জাতীয় পতাকা হাতে তিনি প্রতিবাদের ডাক দেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐক্যের ওপর জোর দেন।
শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বানে বিক্ষোভকারীরা “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি দিয়ে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পদযাত্রা করেন। সেখানে কালো বেলুন উড়িয়ে প্রতিবাদ জানান তারা। পদযাত্রা প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল হয়ে অভিবাসন কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছায়। সকাল থেকেই সীমান্ত এলাকায় প্রচুর মানুষ জমায়েত করেন। শুভেন্দু বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “হাজার হাজার মানুষ এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছে। এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। এই নির্যাতন সহ্য করা হবে না। নতুন রাজাকারদের আত্মসমর্পণ করাবে ভারত। যদি প্রয়োজন হয়, পাকিস্তানের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।”
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ এবং শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করার দাবি তোলেন। তিনি বলেন, “সকাল ৬টা থেকে সীমান্তে বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। এতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
কিন্তু এই ঘটনায় কেন্দ্রের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কেন্দ্রে হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী সরকার রয়েছে, তবুও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত চাইলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিতে পারত। দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের তলব করে কঠোর বার্তা দেওয়া যেত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
এছাড়াও, সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশমন্ত্রী বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কোনো বিবৃতি দেননি। এই নীরবতা কেন্দ্র সরকারের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো বেলুন উড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকার স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর যে নির্যাতন চলছে, তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে ভারত কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।”
তারিখ: ০৩.১২.২০২৪