বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তি সেনা পাঠানো হোক, চান মমতা

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতিসংঘে শান্তি সেনা পাঠানোর প্রস্তাব করেছেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের এখতিয়ারে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেছেন। সীমান্ত ইস্যুতেও তাঁর মন্তব্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তি সেনা পাঠানো হোক, চান মমতা

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতিসংঘে শান্তি সেনা পাঠানোর প্রস্তাব করেছেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের এখতিয়ারে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেছেন। সীমান্ত ইস্যুতেও তাঁর মন্তব্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

কলকাতা, ০২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গে আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের প্রস্তাব, কেন্দ্র রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে বাংলাদেশে শান্তি সেনা পাঠানোর আরজি জানাক।” এই বিষয়ে একটি লিখিত প্রস্তাবও তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আন্দোলন শুরু করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা জানান, রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েই মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন। বিরোধীরা বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ইস্যু হিসেবে তুলতে শুরু করেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বলেন, “এই বিষয়টি রাজ্য সরকারের এখতিয়ারে পড়ে না। এটি একান্তভাবে কেন্দ্র সরকারের বিষয়। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। প্রধানমন্ত্রীর উচিত সংসদে এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়া।” তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার চুপ করে বসে রয়েছে। বিজেপি রোজ মিছিল করছে। সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। খাবার না দেওয়ার হুমকিও এসেছে। তবে আমরা চাই, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হোক। যেকোনো পরিস্থিতিতে মানুষের শান্তি নিশ্চিত করা জরুরি।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “আমাদের বহু বন্ধু এবং আত্মীয় বাংলাদেশে রয়েছেন। যেকোনো ধর্ম, বর্ণ বা জাতির মানুষ আক্রান্ত হলে তা নিন্দনীয়। আমরা চাই, এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হোক।”

তৃণমূল কংগ্রেসের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, তা একটি বড় পদক্ষেপ। এর আগে কোনো মুখ্যমন্ত্রী এ ধরনের মন্তব্য করেননি। তবে এটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি কৌশল বলেই মনে হচ্ছে।”

বাংলাদেশে ভারতীয় পতাকার অসম্মান নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “জাতীয় পতাকার প্রতি অসম্মান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে আমরা ইসকনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।” এছাড়াও তিনি বলেন, “বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের ৭৯ জন মৎস্যজীবী বন্দী রয়েছেন। তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে।”

বাংলাদেশ ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন, তা পরিষ্কার। তৃণমূল কংগ্রেসের একজন নেতা বলেন, “বিরোধীরা বিষয়টিকে কাজে লাগাচ্ছে। এটি একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে তিনি যা বলেছেন, তা সঠিক।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তি সেনা পাঠানোর প্রস্তাব এ বিষয়ে আরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করতে দুই দেশের সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

তারিখ: ০৩.১২.২০২৪