বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, ডাক্তারি পড়া ছাড়ার সিদ্ধান্তে যুবতী

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন ক্রমশ বাড়ছে। উদয়কুমার ঘোষ জানালেন তাঁর ভাইয়ের মেয়ে ডাক্তারি পড়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বাড়ি ফেরার পরও নিরাপত্তাহীনতা, হোস্টেলে থাকা অসম্ভব। প্রধান লক্ষ্য মেয়েরা এবং সম্পত্তি। পরিবারের লড়াইয়ের পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি। (সূত্রঃ এবিপি লাইভ)
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, ডাক্তারি পড়া ছাড়ার সিদ্ধান্তে যুবতী

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন ক্রমশ বাড়ছে। উদয়কুমার ঘোষ জানালেন তাঁর ভাইয়ের মেয়ে ডাক্তারি পড়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বাড়ি ফেরার পরও নিরাপত্তাহীনতা, হোস্টেলে থাকা অসম্ভব। প্রধান লক্ষ্য মেয়েরা এবং সম্পত্তি। পরিবারের লড়াইয়ের পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি। (সূত্রঃ এবিপি লাইভ)

কলকাতা, ০২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। ওপার বাংলায় হিন্দু পরিবারের চরম বিপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন উদয়কুমার ঘোষ। বাংলাদেশের পরিস্থিতির গভীর সংকটের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়েরা এবং তাঁদের সম্পত্তি এখন মূল টার্গেট।

উদয়কুমার ঘোষের পরিবার মূলত ওপার বাংলায় বাস করে। তাঁর ভাইয়ের মেয়ে ডাক্তারি পড়ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, তাঁর ডাক্তারি পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। এবিপি আনন্দের এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, “আমার ভাই আমাকে ফোন করে জানায়, তাঁর মেয়ে আর ডাক্তারি পড়তে চাইছে না। হোস্টেলে থাকা এখন অসম্ভব। বাড়ি ফিরে আসার পরও ওরা নিরাপদ বোধ করছে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার ভাই বলেছে, মেয়েটা এখন বিয়ে করতে চায়। ও আর বাংলাদেশে থাকতে চায় না। হোস্টেলগুলিতে থাকা যায় না। সবাই বাড়ি চলে এসেছে। বাড়িতে থেকেও শান্তি নেই। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, মেয়েদের সুরক্ষার জন্য তাঁদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে হচ্ছে।”

সাংবাদিকের প্রশ্নে উদয়কুমার জানান, “আমার ভাইয়ের পরিবার বলেছে, ছেলেরা কোনওভাবে লড়াই করে টিকে থাকতে পারবে। কিন্তু মেয়েরা মূল টার্গেট। পাশাপাশি, তাঁদের সম্পত্তি লুটপাটের চেষ্টা চলছে। আমাদের কাছে আর কোনও উপায় নেই। মা ও মেয়েদের সুরক্ষার জন্য অন্যত্র পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। উদয়কুমার বলেন, “যে মেয়ে স্কুল-কলেজ পেরিয়ে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন দেখছিল, সে আজ পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে।”

উদয়কুমার ঘোষের কথায় উঠে এসেছে ওপার বাংলার হিন্দুদের ভয়াবহ দুর্দশার চিত্র। তিনি বলেন, “সেখানে হিন্দু মানেই অত্যাচারের শিকার। তাঁরা আর টিকতে পারছেন না। আমাদের পরিবার কোথাও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু যাওয়ার জায়গাও নেই।”

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উদয়কুমার বলেন, “আমরা চাই আমাদের মেয়েদের সুরক্ষিত রাখা হোক। এটি এখন আমাদের প্রধান লড়াই।” তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরার জন্য সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘটনা ওপার বাংলার হিন্দুদের জীবনে যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে, তারই উদাহরণ হল উদয়কুমারের ভাইয়ের পরিবারের পরিস্থিতি। হিন্দু পরিবারের মেয়েদের ওপর নির্যাতন এবং সম্পত্তি দখলের প্রচেষ্টা এখন ওপার বাংলার হিন্দুদের অন্যতম বড় সংকট।

এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে আলোচনা চলছে। অনেকেই এই নির্যাতন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক স্তরে হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। তবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের এই দুর্দশা কত দ্রুত সমাধান হবে, তা এখনও অজানা।

তারিখ: ০৩.১২.২০২৪