'প্রাণ হাতে নিয়ে আছি, ভয় হয় এই বুঝি মারা যাই'

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, অনেকে আতঙ্কে ভারতেও এসেছেন। চুরি, ডাকাতি, মূর্তি ভাঙচুরসহ নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করা হলেও নাগরিকদের আতঙ্ক বহাল। শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রার্থনা করছে সবাই।
'প্রাণ হাতে নিয়ে আছি, ভয় হয় এই বুঝি মারা যাই'

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, অনেকে আতঙ্কে ভারতেও এসেছেন। চুরি, ডাকাতি, মূর্তি ভাঙচুরসহ নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করা হলেও নাগরিকদের আতঙ্ক বহাল। শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রার্থনা করছে সবাই।

ঢাকা, ০২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। অনেকে চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে এসে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জের বাসিন্দা কাকুতি বৈরাগী চিকিৎসা করাতে ভারতে এসে জানান, নিজ দেশে আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না। তিনি বলেন, “চুরি-ডাকাতি বেড়ে গেছে। রাতে ঘুমানো যায় না। পাহারা দিয়ে থাকতে হয়। সবসময় মনে হয়, এই বুঝি আমাদের ওপর আক্রমণ হবে। বাড়িতে আগুন দিয়ে দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “মূর্তি ভাঙচুর হচ্ছে। রাস্তায় বেরোতে ভয় লাগে। বিশেষ করে মহিলারা বড় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। কখন কী ঘটে যায়, এই ভাবনাতেই দিন কাটছে।”

এ ধরনের পরিস্থিতি অনেকেই শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশ এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটি “হামলাদেশ”-এ পরিণত হয়েছে। শান্তির নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন দাবি করেছেন, “বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে। গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের দ্রুত দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।”

কিন্তু বাস্তবে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তারা বলছেন, নৈরাজ্য ও নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেছে। সামাজিক অস্থিরতা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক আচরণের কারণে তাদের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

অনেকেই শান্তির জন্য প্রার্থনা করছেন। তাদের আশা, বাংলাদেশ আবার সোনার বাংলায় পরিণত হবে। বর্তমান অশান্তির ঝড় থেমে গিয়ে একটি নিরাপদ পরিবেশে ফিরে আসবে দেশটি।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তবে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। যারা ভুক্তভোগী, তাদের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সরকারকে সংখ্যালঘুদের আস্থা অর্জনের পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং সরকার তাদের জীবনের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করুক।

তারিখ: ০৩.১২.২০২৪