হিন্দু আইনজীবী-সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা! উদ্বেগ প্রকাশ সংখ্যালঘু অধিকার কাউন্সিলের
Categories:

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু আইনজীবী, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং ইসকন ভক্তদের ভারতে প্রবেশে বাধার অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও আটকে দেওয়ার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল।
ঢাকা, ০২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আইনজীবী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং ইসকন ভক্তদের ভারত যাত্রায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
চট্টগ্রামে ৭০ জন সংখ্যালঘু আইনজীবী ও ২ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ। স্থানীয় কোতয়ালি থানায় গত ৩০ নভেম্বর দায়ের হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা দেশি বোমা বিস্ফোরণ এবং গাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জড়িত। তবে ঐক্য পরিষদ দাবি করেছে, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের মতে, এই মামলা সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের একটি মামলায় আইনি সাহায্য এবং সংবাদ সম্প্রচারে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের বিরোধী। পরিষদ সরকারের প্রতি এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ডেলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মামলা সমাজে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার হরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় সাংবাদিক মুন্নি সাহাকে হেনস্থার ঘটনা আরও বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। “এক টাকার খবর” পোর্টালের সম্পাদক মুন্নি সাহাকে রবিবার রাতে অফিস থেকে বের হওয়ার পর একদল ব্যক্তি ঘিরে ধরে হেনস্থা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে মিন্টো রোডে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দপ্তরে নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের বেনাপোল সীমান্তে ৮৩ জন ইসকন ভক্তকে ভারতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইসকন ভক্তদের সীমান্তে আটকে দেওয়া হয়। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহসানুল কাদের ভুঁইয়া জানিয়েছেন, তাদের ভারত-ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি ছিল না। তবে ভক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর বাড়তে থাকা চাপের একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার লঙ্ঘন, হয়রানি এবং বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও ভ্রমণে বাধা দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাগুলোকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সীমান্তে উদ্ভূত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি উঠেছে।
তারিখ: ০৩.১২.২০২৪