অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি নিয়ে সোমবার বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিং

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সোমবার ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। সরকারের পক্ষ থেকে দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করা হবে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত এবং বিতর্কিত হয়েছে।
অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি নিয়ে সোমবার বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিং

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সোমবার ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। সরকারের পক্ষ থেকে দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করা হবে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত এবং বিতর্কিত হয়েছে।

ঢাকা, ০২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন সংক্রান্ত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি নিয়ে সরকার সোমবার ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করবে। এই বিষয়ে একটি ব্রিফিং আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন দালিলিক প্রমাণ সহ সরকারের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।

রোববার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে যে ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার জেরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার পটভূমি তুলে ধরা হবে। এ প্রসঙ্গে পুরোহিত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার, ইসকন ইস্যু এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময় অনুসারীদের হামলা এবং আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে হত্যার ঘটনাগুলো আলোচিত হবে।

ব্রিফিংটি অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়। এতে ঢাকায় বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোর প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হবে যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যে আলোচনা চলছে, তা প্রকৃতপক্ষে একপাক্ষিক এবং অসত্য। জেনেভার জাতিসংঘ সংখ্যালঘুবিষয়ক ফোরামে এ বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রতিবেদনে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা কাকতালীয় এবং এর বেশিরভাগই ব্যক্তি স্বার্থ, পুরোনো দ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। এগুলোর সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত পতিত সরকারের প্রতি সহানুভূতির অংশ এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন তার বক্তব্যে তুলে ধরবেন যে, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ নতুনভাবে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করছে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ এবং আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার মতো ঘটনাগুলো সম্পর্কে সরকারের ব্যাখ্যা কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হবে। এছাড়াও জানানো হবে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের ধর্মচর্চার অধিকার রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এটি মূলত সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে। তবে এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রমাণসহ সরকারের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার প্রক্রিয়া চলছে।

এই ব্রিফিংয়ে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কিত ইস্যুগুলো নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে জানানো হবে যে, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে, সমান অধিকার ভোগ করেন।

এদিকে, ৫ আগস্টের পর থেকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। তবে সরকার দাবি করেছে যে, এসব অভিযোগ পরিকল্পিতভাবে রং লাগিয়ে পরিবেশিত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার এই ধরনের প্রচারণা বন্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে। ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করতে এবং বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

তারিখ: ০৩.১২.২০২৪