বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে বিশ্ব জুড়ে জনমত গড়তে চায় সঙ্ঘ
Categories:

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নিপীড়ন রুখতে আরএসএস ভারত সরকারের তৎপরতা দাবি করেছে। ধৃত সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মুক্তি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক জনমত তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের অমানবিক আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশের সরকারের কাছে আরজি জানানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবলে।
নয়াদিল্লি, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর চলমান নিপীড়ন এবং সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে আরএসএস ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের মতে, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, বাড়িঘর লুট, এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের অমানবিক আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশের সরকারের কাছে আরজি জানানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবলে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনাগুলি নতুন করে ভারতের রাজনীতিতে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই ইস্যুটিকে কাজে লাগিয়ে হিন্দু ভোটারদের একত্রিত করার কৌশল নিচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে হিন্দুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি তাদের ন্যায্য এবং মানবিক। দলের রাজ্যসভা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ধর্মীয় কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানানো যদি হিন্দুত্ব হয়, তবে বিজেপি সেই হিন্দুত্বের পক্ষে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা ভারতের জন্য সম্ভব নয়। তবে আরএসএস যে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের পরামর্শ দিয়েছে, সেটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের সরকার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় বাধ্য হতে পারে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আরএসএসের বিবৃতিটি বিজেপির কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দত্তাত্রেয় হোসবলে তাঁর বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক হামলা উদ্বেগের বিষয় এবং এ বিষয়ে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
ধৃত চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মুক্তি নিয়ে আরএসএস সরব হলেও বাংলাদেশ সরকার এই গ্রেফতারিকে সঠিক ও আইনানুগ বলেছে। সন্ন্যাসী এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনাবলির মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার প্রশ্ন এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি একসূত্রে গাঁথা হয়ে পড়েছে। সামনের দিনগুলিতে এই ইস্যুটি দুই দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
তারিখ: ০২.১২.২০২৪