বন্দি চিন্ময়কৃষ্ণকে খাবার দিতে গিয়ে আরও দুই সন্ন্যাসী গ্রেফতার
Categories:

চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পর বাংলাদেশে উত্তেজনা বাড়ছে। আরও দুই সন্ন্যাসী রুদ্রপ্রতি কেশব দাস ও রঙ্গনাথ শ্যামসুন্দর দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইসকন নিষিদ্ধের আবেদন আদালত খারিজ করেছে। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন জারি। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
চট্টগ্রাম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নেতা তথা সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে আরও দুই সন্ন্যাসী রুদ্রপ্রতি কেশব দাস এবং রঙ্গনাথ শ্যামসুন্দর দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, চিন্ময়কৃষ্ণের মামলার তদন্তে তাঁদের সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রুদ্রপ্রতি এবং রঙ্গনাথ প্রবর্তক সঙ্ঘের সদস্য। তাঁরা চট্টগ্রামের জেলে বন্দি চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁকে খাবার, ওষুধ এবং কিছু টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাতে ফেরার পথে তাঁদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাঁদের কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে জেলে পাঠানো হয়। প্রবর্তক সঙ্ঘের প্রিন্সিপাল স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস তাঁদের ভয়েস মেসেজ থেকে এই তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ইসকন কলকাতার মুখপাত্র রাধারমণ দাস সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করেন যে, চট্টগ্রাম পুলিশ আরও এক সন্ন্যাসী শ্যাম দাসকে গ্রেফতার করেছে। তিনি এই গ্রেফতারির নিন্দা করে বলেন, ‘‘ইসকন গভীরভাবে মর্মাহত। নির্দোষ মানুষদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’’ পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, এক জন নয়, দু’জন সন্ন্যাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ রয়েছে, তা পরিষ্কার করা হয়নি।
গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার দাবিতে সরব চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গত সোমবার গ্রেফতার করা হয়। তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছে। চিন্ময়কৃষ্ণের মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম এবং রংপুরে সংখ্যালঘুরা বিক্ষোভে নামেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মঙ্গলবার এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ হাই কোর্টে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার আবেদন করা হয়। আদালতে বাংলাদেশ সরকার ইসকনকে একটি ‘‘ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠন’’ বলে উল্লেখ করে। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। কলকাতায় গত কয়েকদিন ধরে ইসকনের সমর্থনে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ চলছে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে আলোচনা চলছে। চিন্ময়কৃষ্ণ দাস এবং আরও দুই সন্ন্যাসীর গ্রেফতারির ঘটনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক মহল।
তারিখ: ০২.১২.২০২৪