জোরালো হচ্ছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবি, শান্তিপ্রার্থনায় ইসকন
Categories:

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসকনের ১৫০টি দেশের মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা। বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিলেও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা চলছে।
কলকাতা, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য রবিবার ইসকনের মন্দিরগুলোতে বিশ্বব্যাপী প্রার্থনা ও কীর্তনের আয়োজন করা হয়। কলকাতা, শিলিগুড়ি, জয়পুর, গুয়াহাটি, ভুবনেশ্বর, বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন স্থানে ইসকনের ভক্তরা শান্তির জন্য প্রার্থনায় অংশ নেন। ইসকনের মুখপাত্র রাধারমণ দাস পিটিআইকে জানান, ১৫০টি দেশের প্রায় ৮৫০টি মন্দির এবং হাজারো কেন্দ্র থেকে ভক্তরা এই প্রার্থনায় যোগ দিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
ইসকনের বেঙ্গালুরু শাখার সভাপতি মধুপণ্ডিত দাস বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ভারত সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আলোচনা করেছেন। একইভাবে, অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাসও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। চট্টগ্রামে একটি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা, শিবচরে ইসকনের একটি কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন সহিংসতায় সংখ্যালঘুরা আতঙ্কিত। ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ইন্ডিয়া টুডে’সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস নামক সন্ন্যাসীর গ্রেফতারের পর আরও দুই সন্ন্যাসীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, গত তিন মাসে বাংলাদেশের ৫০টি জেলায় ২০০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বেনাপোল সীমান্তে গত দুই দিনে ৬৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের অভিবাসন পুলিশের দাবি, এই ব্যক্তিরা সন্দেহজনক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পার হতে চেয়েছিলেন। তবে, সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এরা ইসকনের ভক্ত ছিলেন।
দিল্লি থেকে একাধিকবার বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ বিচার হওয়া উচিত।
এদিকে, বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার জানিয়েছে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম রাষ্ট্রপুঞ্জকে জানান, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা করতে পারে এবং সংখ্যালঘুসহ সবাই নিরাপদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বক্তব্য সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তারিখ: ০২.১২.২০২৪