মগের মুল্লুক: সাইফুল হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসকে আসামি দাবি

মগের মুল্লুক: চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডে আইনজীবী সমিতি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আসামি করার দাবি জানিয়েছে। প্রিজন ভ্যানে বাধা, সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়।
মগের মুল্লুক: সাইফুল হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসকে আসামি দাবি

মগের মুল্লুক: চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডে আইনজীবী সমিতি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আসামি করার দাবি জানিয়েছে। প্রিজন ভ্যানে বাধা, সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়।

চট্টগ্রাম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৪: চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে মামলার আসামি করার দাবি জানিয়েছে। রবিবার চট্টগ্রাম আদালত চত্বর থেকে শুরু হওয়া শোক মিছিল শেষে সমাবেশে আইনজীবীরা এই দাবি জানান। মিছিলটি নগরের লালদীঘি মোড়, কোতোয়ালি থানা মোড়, নিউমার্কেট মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে আদালত প্রাঙ্গণে শেষ হয়।

গত মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হলে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় তাঁর সমর্থকরা গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ এবং বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এই সময় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনজীবীদের গাড়ি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটে।

এই সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম প্রাণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষের সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার পর সাইফুলকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে, যা তদন্তের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সাইফুল হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়। এই মামলাগুলোর মধ্যে তিনটি পুলিশের এবং একটি নিহতের ভাই জানে আলমের দায়ের করা। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জন হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

শোক মিছিল শেষে সমাবেশে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আইনজীবী সাইফুল হত্যাকাণ্ডসহ আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া প্রতিটি সহিংস ঘটনার মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আসামি করতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, “পুলিশের অবহেলার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। চিন্ময় দাস প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় তাঁর সমর্থকদের বাধা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি পুলিশের মাইক ব্যবহার করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা পরবর্তীতে ভাঙচুর এবং সন্ত্রাসের কারণ হয়েছে।”

আইনজীবীরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যেমন ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য।

সাইফুল হত্যাকাণ্ডের পর গত বুধ ও বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ৭৪টি আদালতের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রবিবার আদালতের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে বিচারপ্রার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ফটিকছড়ি থেকে আসা এক বিচারপ্রার্থী জানান, বন্ধ থাকার কারণে তাঁর মামলার শুনানি স্থগিত হয়েছিল। রবিবার আদালতের বারান্দা ও এজলাস ছিল বিচারপ্রার্থীদের ভিড়ে পরিপূর্ণ।

চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি মফিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, “টানা দুই দিনের সঙ্গে সাপ্তাহিক বন্ধ যোগ হওয়ায় আজ আদালতে চাপ কিছুটা বেশি। তবে সোমবার থেকে অবকাশকালীন ছুটিতে আদালত বন্ধ থাকবে।”

তারিখ: ০২.১২.২০২৪