দুই দিনে বেনাপোল দিয়ে ‘সন্দেহজনক’ ৬৩ ইসকন ভক্তকে ভারতে প্রবেশে বাধা

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনে গত দুই দিনে ৬৩ জন বাংলাদেশি ইসকন ভক্তকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, তাঁরা সন্দেহজনক যাত্রী। যাত্রীরা জানান, পূজা-অর্চনার জন্য ভারতে যাচ্ছিলেন। ইমিগ্রেশন পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
দুই দিনে বেনাপোল দিয়ে ‘সন্দেহজনক’ ৬৩ ইসকন ভক্তকে ভারতে প্রবেশে বাধা

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনে গত দুই দিনে ৬৩ জন বাংলাদেশি ইসকন ভক্তকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, তাঁরা সন্দেহজনক যাত্রী। যাত্রীরা জানান, পূজা-অর্চনার জন্য ভারতে যাচ্ছিলেন। ইমিগ্রেশন পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৪: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ গত দুই দিনে ৬৩ জন বাংলাদেশি যাত্রীকে ফেরত পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহজনক যাত্রী হিসেবে তাঁদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রবিবার সকালে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশনে যান ৯ জন বাংলাদেশি। কিন্তু তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাঁদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয় এবং ফেরত পাঠায়। এর আগে, শনিবার আরও ৫৪ জন যাত্রীকে একই কারণে ফেরত পাঠানো হয়।

ফেরত আসা যাত্রীরা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) অনুসারী এবং পূজা-অর্চনার উদ্দেশ্যে ভারতে যাচ্ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কারণ না জানিয়েই ইমিগ্রেশন থেকে তাঁদের ফিরে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে তাঁদের এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

যশোরের চাঁচড়া ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ দেবগৌর দাস ব্রহ্মচারীর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভূঞা জানিয়েছেন, সন্দেহজনক যাত্রী হিসেবে গত দুই দিনে ৬৩ জন যাত্রীকে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা যাত্রীদের গতিবিধি এবং কাগজপত্রের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাঁদের ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া যায়নি।”

উল্লেখ্য, বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এ চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাতায়াত করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত যাত্রীদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। ইমিগ্রেশন পুলিশ এ বিষয়ে সতর্ক থেকে সন্দেহজনক যাত্রীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে।

এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এমন বাধা দেওয়া তাঁদের জন্য অযৌক্তিক এবং অসম্মানজনক। তবে পুলিশ বলছে, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই তাঁরা এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

সন্দেহজনক যাত্রীদের বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ এটিকে যথাযথ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে কেউ কেউ একে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কার্যক্রম এবং সন্দেহজনক যাত্রীদের বিষয়ে পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তা নিয়ে এখন সকলের নজর।

তারিখ: ০২.১২.২০২৪