‘বাংলাদেশ চলো’ অভিযানে উত্তাল শ্রীভূমির স্থলবন্দর সুতারকান্দি সীমান্ত
Categories:

বাংলাদেশে সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার ও ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারের প্রতিবাদে শ্রীভূমির সুতারকান্দি সীমান্তে হাজারো মানুষের মিছিল উত্তাল হয়েছে। পুলিশ, সিআরপিএফ, ও বিএসএফ মোতায়েন করে সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা রোধ করা হয়।
সুতারকান্দি, ত্রিপুরা, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সনাতনী সম্প্রদায়ের উপর লাগাতার অত্যাচার এবং ইসকন-এর সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারের প্রতিবাদে আজ রবিবার শ্রীভূমি জেলা সদরের অদূরে সুতারকান্দি সীমান্তে এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ডাকে সাড়া দিয়ে সকাল থেকেই উলুকান্দি এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হন। সনাতনী ঐক্যমঞ্চ-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে উপস্থিত জনতা ‘জয় শ্রীরাম’, ‘ইউনূস সরকার হায় হায়’, ‘নিঃশর্তে চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর মুক্তি চাই’, এবং ‘হিন্দু সনাতনীদের ওপর হামলা বন্ধ করো’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে।
সেখান থেকে শুরু হওয়া মিছিল সুতারকান্দি সীমান্তের দিকে এগোতে থাকে। মিছিলটি এত বড় আকার ধারণ করে যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগেই সীমান্ত এলাকায় তিন শতাধিক পুলিশ, সিআরপিএফ, এবং বিএসএফ মোতায়েন করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন শ্রীভূমির পুলিশ সুপার পার্থপ্রতিম দাস।
মিছিলটি সীমান্তে পৌঁছানোর আগে পুলিশ প্রশাসন ব্যারিকেড বসিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু উত্তেজিত জনতা ব্যারিকেড ভেঙে সীমান্তের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে মিছিলের একটি অংশ সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে পৌঁছে যায়। খাল ও নালা পার হয়ে তারা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলেও আধাসামরিক বাহিনী তাদের থামিয়ে দেয়।
সনাতনী ঐক্যমঞ্চ-এর নেতারা বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে অত্যাচার চলছে, তা আর সহ্য করা সম্ভব নয়। ইসকনের সন্ন্যাসীদের গ্রেফতার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই মিছিলের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়া, যাতে বাংলাদেশ সরকার সনাতনী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়।”
মিছিলকারীরা জানান, বাংলাদেশে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য এবং সন্ন্যাসীদের গ্রেফতারের মতো ঘটনা প্রতিবেশী দেশ ভারতের সনাতনী সম্প্রদায়ের মনে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তারা বলেন, “হিন্দুদের ওপর এই অত্যাচার বন্ধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের মুখে পড়তে হবে।”
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার পার্থপ্রতিম দাস বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হল শান্তি বজায় রাখা। আমরা যেকোনো ধরনের উত্তেজনা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।”
সুতারকান্দি সীমান্তের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ছিল দৃঢ়। তবে আন্দোলনকারীদের মতে, সীমান্তে এই প্রতিবাদ মূলত একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ছিল। কিন্তু তাদের দাবি, প্রশাসন অযথা কড়াকড়ি আরোপ করে তাদের কথা আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে।
বাংলাদেশে সনাতনী সম্প্রদায়ের উপর চলমান নির্যাতনের ঘটনা ভারতেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেশী দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই পরিস্থিতি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যকার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা সময়ই বলে দেবে।
তারিখ: ০২.১২.২০২৪