বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ, ত্রিপুরা-কলকাতার দুই হাসপাতালের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা এবং ভারতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ত্রিপুরার আইএলএস ও কলকাতার জেএন রে হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করেছে। সিদ্ধান্তের পেছনে হাসপাতালের কর্মকর্তারা জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তার কারণ উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ, ত্রিপুরা-কলকাতার দুই হাসপাতালের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা এবং ভারতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ত্রিপুরার আইএলএস ও কলকাতার জেএন রে হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করেছে। সিদ্ধান্তের পেছনে হাসপাতালের কর্মকর্তারা জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তার কারণ উল্লেখ করেছেন।

আগরতলা, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার এবং ভারতীয় জাতীয় পতাকার অবমাননা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ত্রিপুরার আগরতলা ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দুটি নামকরা হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার আগরতলার আইএলএস হাসপাতাল এই ঘোষণা দেয়। এর আগে শুক্রবার একই সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতার জেএন রে হাসপাতাল।

ত্রিপুরার আইএলএস হাসপাতালের চিফ অপারেটিং অফিসার গৌতম হাজারিকা জানান, “বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা স্থগিত রাখার দাবি পূর্ণ সমর্থন করি। আমাদের হাসপাতালের সহায়তা কেন্দ্রগুলি আজ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।” হাসপাতালটি এতদিন বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণের ঘটনা এবং ভারতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কলকাতার জেএন রে হাসপাতালের কর্মকর্তা শুভ্রাংশু ভক্ত বলেন, “বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য সহজ ছিল না। তবে, বাংলাদেশের কিছু ঘটনাবলি আমাদের এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ মেনে নেওয়া যায় না, বিশেষ করে যখন ভারত দেশটির স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।”

আগরতলার হাসপাতালের বাইরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, বাংলাদেশি নাগরিকরা যাতে এই হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা না পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। এক বিক্ষোভকারী বলেন, “বাংলাদেশে মৌলবাদীরা শুধু সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালিয়েই থেমে থাকেনি, আমাদের জাতীয় পতাকাকে অপমান করেছে। এটি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে। তাঁর গ্রেফতারির পর আরও দুই সন্ন্যাসী, রুদ্রপ্রতি কেশব দাস এবং রঙ্গনাথ শ্যামসুন্দর দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গেছে, তাঁরা জেলবন্দি চিন্ময়কৃষ্ণের জন্য খাবার, ওষুধ এবং টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুই সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা রোগীদের উপর এর প্রভাব পড়েছে। হাসপাতালগুলির সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা চলছে।

ভারতীয় হাসপাতালগুলোর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে সমর্থন করছেন, আবার কেউ মানবতার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি তুলছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি ও ভারতের কড়া পদক্ষেপের মধ্যে কীভাবে দুই দেশের সম্পর্ক এগোবে, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। তবে মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত হয়তো আরো পর্যালোচনা করা উচিত।

তারিখ: ০২.১২.২০২৪