ইসকনের ব্যানারে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা আইনজীবীকে হত্যা করেছে: জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ইসকনের ব্যানারে সংঘটিত হামলার মাধ্যমে মুসলমানদের উসকানি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।
ইসকনের ব্যানারে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা আইনজীবীকে হত্যা করেছে: জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ইসকনের ব্যানারে সংঘটিত হামলার মাধ্যমে মুসলমানদের উসকানি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।

ঢাকা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪: গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের সংশ্লিষ্টতা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ইসকনের ব্যানারে এই হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার মুসলমানদের উসকানি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। এই ঘটনার লক্ষ্য ছিল পশ্চিম বিশ্বে অশান্তির ছবি এবং ভিডিও তুলে ধরা, যাতে করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে ওঠে। সাকি বলেন, ‘এটি তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ, যাতে করে তারা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।’

তিনি আরো বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ত্রাসের রাজত্ব চালিয়েছে। সাকি অভিযোগ করেন যে, এই সময়ের মধ্যে সরকার হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, গুম এবং খুনের মাধ্যমে জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছে। তার মতে, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রয়োজন এবং এর জন্য বিপ্লবের প্রয়োজন রয়েছে।

গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে অনুষ্ঠিত এক গণসংলাপে এসব মন্তব্য করেন। ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে’ শীর্ষক এই গণসংলাপের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের সংবিধান, শাসনব্যবস্থা এবং আইনকানুন বহাল রেখে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব নয়।’ সাকি আরও যোগ করেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করি, কিন্তু দেশের জনগণ আজও কষ্টে রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, কৃষকদের সারের দাম বৃদ্ধি, হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার না হওয়া এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি না হওয়ার কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে চলেছে।’

সাকি আরো বলেন, ‘গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লিতে হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি, ফুলবাড়ীতে হত্যা করা হয়েছিল, কিন্তু তারও বিচার হয়নি।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিস্টরা সাধারণ জনগণের প্রতি অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ তাদের কোনো বিচার হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘দেশে ফ্যাসিস্টদের রাজনৈতিক অধিকার থাকতে পারে না, তারা যদি আমাদের খুন করে আবার বিনা বিচারে লুটে খায়, তাদের তা মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের দেশে সব ফ্যাসিস্টদের বিচার হবে।’

জোনায়েদ সাকি এ সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তোলেন যে, তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশি-বিদেশি শক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সাকি বললেন, ‘অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করতে আওয়ামী লীগ নানা ষড়যন্ত্র করছে, তারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে যে কোনো পন্থা অবলম্বন করছে।’ তিনি দাবি করেন, সরকার দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ‘অস্থিতিশীল পরিবেশ’ তৈরি করছে এবং জনগণের ক্ষোভের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তারা একের পর এক অপকর্ম করে চলেছে।

গণসংলাপে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা এই পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। গণসংহতি আন্দোলন রংপুর জেলার আহ্বায়ক তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, দীপক রায়, কৃষক-মজুর সংহতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম প্রমুখ বক্তব্য দেন। বক্তারা দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান শোষণ ও দমনমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বর্তমান সরকারের অগণতান্ত্রিক শাসনের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি দাবি করেন যে, বর্তমানে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জনগণের একতাবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন, যা আগের মতোই গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত করবে।

তিনি বলেন, ‘তিন দশক আগে স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের একত্রিত হওয়ার যে প্রেরণা ছিল, আজ সেই চেতনা আমাদের প্রয়োজন। জনগণকে একত্রিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃস্থাপন করতে হবে।’ গণসংহতির এই নেতা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং জনগণের প্রতি দমন-পীড়ন পরিস্থিতি একটি খারাপ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

সাকি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের গণসংলাপের মাধ্যমে জনগণ সচেতন হবে এবং তারা নিজেদের অধিকার রক্ষায় সংগঠিত হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষকে যদি সাহসীভাবে তাদের অধিকার আদায়ের পথে পরিচালিত করা যায়, তবে তবেই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব।

এই গণসংলাপ শেষে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা দেশব্যাপী রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে একত্রিত হওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন।

তারিখ: ০১.১২.২০২৪