বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়নে প্রতিবাদ এপারে, কাঁটাতারে রক্তক্ষরণ সীমান্তবাসীর!
Categories:

হেমতাবাদের মাকরহাট সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের এক নতুন বাস্তবতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় হাজার হাজার মানুষ ভীত হয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। বিএসএফ-এর সতর্কতায় এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও সীমান্তের ওপারে বাড়ছে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতা।
হেমতাবাদ, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪: হেমতাবাদের মাকরহাট সীমান্তের বিক্ষিপ্ত দৃশ্য, যেখানে কাঁটাতারের ওপারে যতদূর দৃষ্টি যায়, সেখানে ভারতের জমির আবাদী ক্ষেতের সারি। এই মুহূর্তে, ভারতের কৃষকদের আমন ধান কাটা শেষ হলেও, ভুট্টা ও সরিষার চাষের ব্যস্ততা জারি রয়েছে। তবে, সীমান্তে কৃষিকাজের পাশাপাশি আরো এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা ঘিরে রয়েছে।
অতীতের স্মৃতির কথা মনে করে, স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল রহিম বলেন, “প্রত্যেক বছর কার্তিক পুজো পরেই এখানে সীমান্ত মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হতো, দুই দেশের মানুষ একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করতেন, খাবার আদান-প্রদান হতো। কিন্তু এখন বাংলাদেশের গোলমালের কারণে পুলিশ ঘোষণা করেছে, এবার এই মিলন মেলা হবে না।”
এমনটাই ঘটছে হেমতাবাদের মহিষাগাঁও সীমান্তের ৬৩ নম্বর ব্যাটেলিয়ন এলাকার আশেপাশে, যেখানে বাংলাদেশের ভুট্টাচাষি ও ধানচাষিরা আতঙ্কিত হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসার জন্য রাতের অন্ধকারে পালানোর চেষ্টা করছে।
প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে, দেশের ভিতরে ভাঙচুর, মারামারি, ও ঘরবাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশি হিন্দুরা যখন প্রাণ বাঁচাতে এপারে আসছেন, তখন কিছু জায়গায় বিএসএফের হাতে ধরা পড়ছেন তারা।
একদিকে যেমন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) তাদের সীমান্ত সুরক্ষায় সতর্ক রয়েছে, অন্যদিকে ওপারের বাংলাদেশী পরিবারগুলো নিজেদের জন্মভিটে ছেড়ে পালানোর জন্য ক্ষণিকের তৎপরতায় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসতে চাইছে।
এমনই এক ঘটনা ঘটে মালোন সীমান্তের কাছে, যেখানে ওপারের কামাটুলি গ্রামে বসবাসকারী কিছু পরিবার গত কয়েক দিন ধরে ভারতে প্রবেশের জন্য পরিকল্পনা করছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে।
বিএসএফ-এর এক কর্মকর্তা জানান, “এই ঘটনায় সীমান্তের ওপার থেকে কিছু লোক রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিল, তবে তাদের উপস্থিতি নজরে আসার পর তাদের ফিরিয়ে দিতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল।”
এপারে কৃষক মহম্মদ হারুণ ও রূপনারায়ণ বর্মন বলেন, “বাংলাদেশে আর শাসন নেই, প্রতিদিন হামলা, ঘরবাড়িতে আগুন লাগানো হচ্ছে। বহু পরিবার রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসছে, কিন্তু বিএসএফ তাদের থামিয়ে দিয়েছে। আমাদের এখানে শান্তি আছে, কিন্তু ওপারে দুঃশাসন চলছে।”
বাংলাদেশের রাজনীতির অস্থিরতায় ওপারের মানুষের জীবন বর্তমানে অনিশ্চিত। সীমান্ত এলাকাগুলোতে হাজার হাজার পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ প্রতিদিন নতুন নতুন হামলা ও সংঘর্ষের খবর আসছে। সেই সাথে, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে আসার জন্য এক ধরনের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, যা রীতিমতো উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে।
বিষ্ণুপুর সীমান্তের পার্শ্ববর্তী গ্রামে নতুন ধান ঝাড়ার মাঝে এক দম্পতির কথায়, “কাঁটাতারের ওপার থেকে লোকজন আসছে বলে শোনা যাচ্ছে। আমাদের মাঝেই অনেকেই জানাচ্ছে যে ওপারে আর নিরাপত্তা নেই, তাই ভয়বিহীনভাবে এখানকার জীবন চালানো যাচ্ছে না। তবে বিএসএফ আমাদের জানাচ্ছে যে তারা কোনভাবেই সীমান্ত পেরোতে দেবে না।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা যে এক ধরনের চরম পরিণতির দিকে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট। অনেক মানুষ এখন ভারতে আশ্রয় নিতে চাচ্ছেন, কারণ তাদের কাছে কোনো নিরাপত্তা নেই। সেই সাথে, সীমান্তে বিএসএফ-এর নজরদারি আরো কঠোর হয়েছে, এবং এর ফলে অনেকেই ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়ছেন।
এই সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। সীমান্তের ওপারের মানুষের উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে ভারতীয় ভূখণ্ড। এখানে তাদের ভবিষ্যত ও নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা স্পষ্ট।
তবে, সীমান্তের এপার ও ওপারের মানুষ একে অপরের সহায়তা করতে চেয়েছেন, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন তাদের একে অপরের দিকে হাত বাড়ানোতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারিখ: ০১.১২.২০২৪