জাতিসংঘে বাংলাদেশ: আগস্ট ৫ পরবর্তী সহিংসতা রাজনৈতিক কারণে হয়েছে
Categories:

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধির বক্তব্য, আগস্ট ৫ পরবর্তী সহিংসতা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণে ঘটেছে, ধর্মীয় নয়। তিনি জানান, বাংলাদেশের সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার অভিযোগগুলির বেশিরভাগই ভিত্তিহীন।
ঢাকা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের জাতিসংঘে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি তরিক মিঃ আরিফুল ইসলাম ১৭তম জাতিসংঘ সংখ্যালঘু বিষয়ক ফোরামে ২৮ নভেম্বর জানিয়েছেন যে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সহিংসতার মূল কারণ রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত ছিল, ধর্মীয় সম্প্রীতির কারণে নয়। তিনি জানান, ওই সহিংসতার শিকার বেশিরভাগ মানুষ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থক ছিলেন এবং এই সহিংসতায় প্রায় সবাই মুসলিম ছিল, মাত্র কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য আক্রান্ত হয়েছিলেন।
আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো সিস্টেমিক আক্রমণ হয়নি। বরং, জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের পর, বাংলাদেশের জনগণ তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে সামনে এসেছে এবং এই উদাহরণটি সারা বিশ্বের সামনে এসেছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ নিশ্চিত করে যে, দেশের সব নাগরিক, তাদের ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে, নিজ ধর্ম পালনের বা মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস, জনগণের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে কাজ করছে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুইজন উপদেষ্টাকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আরিফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, যখন বাংলাদেশের জনগণ ধর্মীয় সম্প্রীতির উদাহরণ স্থাপন করছিল, তখন কিছু পক্ষ দ্বারা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, অনেক মিথ্যা তথ্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার বিদেশী সাংবাদিকদের দেশ ভ্রমণ করতে স্বাগত জানাবে যাতে তারা দেশের বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে পারেন।
তিনি এও জানান, চিন্ময় দাসের গ্রেফতার নিয়ে কিছু বক্তব্য বিভ্রান্তিকর হয়েছে এবং তিনি একাধিক নির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার হন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি আইন অনুযায়ী আদালত দ্বারা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুসলিম আইনজীবী হত্যার পর, সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও সম্প্রদায়ের নেতারা একযোগে পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়তা করেছেন। আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকার সংকল্পবদ্ধ রয়েছে যে, যে কোনো মূল্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না।
তারিখ: ৩০.১১.২০২৪