আইনজীবী হত্যায় ধৃত ৯! ৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অধিকাংশই সংখ্যালঘু

চট্টগ্রামে আদালতসংলগ্ন সংঘর্ষে এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশি-বিদেশি উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে, এবং ভারত সরকারও বাংলাদেশকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছে।
আইনজীবী হত্যায় ধৃত ৯! ৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অধিকাংশই সংখ্যালঘু

চট্টগ্রামে আদালতসংলগ্ন সংঘর্ষে এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশি-বিদেশি উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে, এবং ভারত সরকারও বাংলাদেশকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছে।

চট্টগ্রাম, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪: চট্টগ্রামে আদালতের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে এবং এই ঘটনার পর বাংলাদেশের পুলিশ ইতিমধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানায়, ওই আইনজীবীর বাবা শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে আটক আছেন।

এরপর, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অধিকাংশ অভিযুক্তই চট্টগ্রামের সেবক কলোনির বাসিন্দা এবং তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কিছু নাম প্রকাশিত হয়েছে, যারা সম্ভবত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজও চলছে।

এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে যখন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি বাংলাদেশে প্রাক্তন ইসকন সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র, চট্টগ্রামে এক ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। ওই সমাবেশে হাজার হাজার সংখ্যালঘু মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। সমাবেশের পরেই রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয় এবং জামিন আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

চিন্ময়ের জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর, তার অনুগামীরা আদালতের বাইরে ব্যাপক ভিড় জমায় এবং এ সময় পুলিশি প্রিজ়ন ভ্যানে চিন্ময়কে তোলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। অভিযোগ, এই সংঘর্ষে আইনজীবীটি নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, তার মৃত্যু সংঘর্ষের মধ্যেই ঘটে।

এদিকে, ঘটনার পর তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আইনজীবী হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ইসকন থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেও, তার গ্রেফতার হওয়ার পর ইসকন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা বাংলাদেশের সরকারকে সতর্ক করে জানিয়েছে, চিন্ময়ের নাগরিক অধিকার যেন খর্ব না হয় এবং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

এদিকে, ইসকনের পক্ষ থেকে বিশ্বজুড়ে শান্তিপ্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে যাতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)ও বাংলাদেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের। ব্রিটেনের সংসদেও এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কনজারভেটিভ দলের সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান বাংলাদেশের সরকারের অবস্থান নিন্দা করেছেন এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ব্রিটেন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদেই রয়েছেন এবং এই বিষয়ে অন্য দেশগুলোর হস্তক্ষেপ তারা পছন্দ করে না। প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে জানান, বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে এবং সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারিখ: ৩০.১১.২০২৪