নির্যাতনের শিকার হিন্দুরা! বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের ইঙ্গিত ত্রিপুরার
Categories:

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা জানান, রাজ্য সরকার বাণিজ্য বন্ধ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেও বিষয়টি ভাবনাচিন্তার পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার কথা জানান।
আগরতলা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪: শনিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা এক সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার বাণিজ্য বন্ধের ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে এটি ভাবনাচিন্তার পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তিনি জানান, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরা সরকার বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর যা চলছে তা অমানবিক। বর্তমান সরকারকে এটি খেয়াল রাখতে হবে যেন সংখ্যালঘুদের স্বাধীনতা খর্ব না হয়।” তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছেই, এবং এটি বর্তমান সরকারের নজরদারির মধ্যে থাকা উচিত।”
এছাড়া তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ত্রিপুরায় অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের জন্য বিএসএফ ও পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাসিনা সরকারের পতনের পর, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পরিস্থিতি শোধরাতে বাংলাদেশে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি এবং সম্প্রতি নয়া আইন আনার পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু মুখ, সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন ও নির্যাতন বাড়তে থাকায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার নয়াদিল্লি থেকে একটি বিবৃতি জারি করে ভারতের সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে এবং চিন্ময় প্রভুর সুবিচার দাবি করেছে। তবে, ত্রিপুরা সরকার এখনও কেন্দ্রীয় স্তরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি এবং অপেক্ষা করছে কেন্দ্র কী সিদ্ধান্ত নেয়।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেছেন, এ বিষয়ে কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নেবে, রাজ্য সরকার সেটাকেই সমর্থন করবে। তবে, বিজেপি শাসিত ত্রিপুরা সরকারের মধ্যে পড়শি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের দিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, ত্রিপুরা সরকার ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং দ্রুতই একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা জানান, রাজ্য সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের জন্য বিএসএফ এবং পুলিশকে আরও বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে ভারতের এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থান আরও আলোচনার মধ্যে আসতে পারে।
এদিকে, ত্রিপুরার স্থানীয় রাজনীতিকরা বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করছেন। কিছু রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন যে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন, তবে অন্যরা মনে করছেন যে, এটি একটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয় এবং সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানই সঠিক উপায়। ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারের এই সংকল্প পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক বিষয়গুলিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তারিখ: ০১.১২.২০২৪