হিন্দু নির্যাতন নিয়ে মিথ্যা বলা হচ্ছে, বিশ্ব মঞ্চে মুখ বাঁচাতে দাবি বাংলাদেশের

অগস্ট থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি মন্দিরে হামলা হয়েছে। সরকার এই অভিযোগকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিলেও, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এনজিও এবং ব্রিটিশ সাংসদরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কলকাতায়ও বিক্ষোভ হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। (সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস)
হিন্দু নির্যাতন নিয়ে মিথ্যা বলা হচ্ছে, বিশ্ব মঞ্চে মুখ বাঁচাতে দাবি বাংলাদেশের

অগস্ট থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি মন্দিরে হামলা হয়েছে। সরকার এই অভিযোগকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিলেও, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এনজিও এবং ব্রিটিশ সাংসদরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কলকাতায়ও বিক্ষোভ হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। (সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস)

ঢাকা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪: অগস্টের পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই সংক্রান্ত নানান রিপোর্ট সামনে এসেছে, তবে গত কয়েকদিনে আরও বেশি করে সংখ্যালঘু অত্যাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে। সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলি খারিজ করা হলেও, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশেষভাবে রাষ্ট্রসংঘের সংখ্যালঘু বিষয়ক ফোরামে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফোরামের ১৭তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকার দাবি করেছে, তাদের দেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি গৌরবজনক উদাহরণ তৈরি করেছে এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে যে রিপোর্টগুলো প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত। বাংলাদেশের প্রতিনিধি আরও বলেন, বিদেশি সাংবাদিকদের বাংলাদেশ সফরে স্বাগত জানাতে সরকার প্রস্তুত। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের বিষয়টিও সেখানে আলোচনা হয়েছে, যেখানে সরকার দাবি করেছে যে, তাকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে বাস্তবে পরিস্থিতি আলাদা। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। কয়েকটি মন্দিরে হামলা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ উঠেছে সেনার ভূমিকা নিয়ে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহের কয়েকটি মন্দিরে হামলা হয়েছে, এবং এর প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়েছে। এই হামলাগুলির প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, বরং অভিযোগ করা হচ্ছে, প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবাদ বাড়ছে। ব্রিটিশ সংসদেও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। কনভারভেটিভ পার্টির সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান হাউজ অফ কমনসে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। তাদের মন্দির পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এবং তাদের হত্যাও করা হচ্ছে।” ব্ল্যাকম্যান আরও বলেন, “এটা এখন ভারতের জন্যে একটা হুমকি, কারণ ভারতই বাংলাদেশকে স্বাধীন হতে দিয়েছিল।”

এছাড়া, ডোনাল্ড ট্রাম্পও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের মতে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর এই ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

এদিকে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি কলকাতার মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। কলকাতায় বাংলাদেশি ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিছুদিন ধরে এখানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা পোড়ানো এবং মহম্মদ ইউনুসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এর পরেই বাংলাদেশের সরকার এক বিবৃতি প্রকাশ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, “এ ধরনের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে আমাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।”

বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সদস্যদের নিরাপত্তা বিষয়ে ভারত সরকারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের সরকার ভারত থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা আশা করছি ভারত সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।”

এদিকে, বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, এই সমস্ত প্রতিবেদনগুলি মিথ্যা এবং বিদেশি শক্তিগুলির ষড়যন্ত্রের অংশ। তবে বাস্তব পরিস্থিতি যে ভিন্ন, তা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্পষ্ট। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলি এবং এনজিওরাও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি আরও বেশি করে তুলে ধরছে।

এছাড়া, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তাকে গ্রেফতার করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল থেকে চাপ তৈরি হয়েছে, যদিও বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে যে, তিনি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হয়েছেন। এই ধরনের আইনি ব্যবস্থা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অনেকাংশেই বাড়তি আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

এখন দেখার বিষয় হবে, এই চাপের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার কিভাবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে।

তারিখ: ০১.১২.২০২৪