চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর

চট্টগ্রামের পাথরঘাটা ও পটিয়া উপজেলায়, এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শান্তন্বেশ্বরী মাতৃমন্দিরসহ ইসকন পরিচালিত মন্দিরগুলোতে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর

চট্টগ্রামের পাথরঘাটা ও পটিয়া উপজেলায়, এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শান্তন্বেশ্বরী মাতৃমন্দিরসহ ইসকন পরিচালিত মন্দিরগুলোতে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪: চট্টগ্রামের পাথরঘাটা ও পটিয়া উপজেলায় এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রামের পাথরঘাটার শান্তন্বেশ্বরী মাতৃমন্দিরে শুক্রবার দুপুরে একটি মিছিল থেকে হামলা চালানো হয়। মিছিলটি কোতোয়ালি মোড় হয়ে পাথরঘাটার দিকে যাওয়ার সময় কিছু ব্যক্তি মন্দিরের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। নিচতলার শনি মন্দিরের কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং মন্দির লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়।

মন্দির পরিচালনা কমিটির স্থায়ী সদস্য তপন দাস জানিয়েছেন, হামলার সময় মন্দিরের আশপাশের দোকান ও বাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, হামলার সময় পুলিশের সদস্য সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের কষ্ট হয়। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে বাসুদেব দত্ত মুকুন্দ দত্ত ধাম ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুন নূর জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা মন্দিরের ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সিসি ক্যামেরার লাইন কেটে দেয়।

অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইসকন পরিচালিত শ্রীশ্রী হরেকৃষ্ণ নামহট্ট সংঘে শুক্রবার বিকেলে হামলার ঘটনা ঘটে। পৌর শহরের রানীরবাজার এলাকায় সংঘের কার্যালয়ে কিছু ব্যক্তি লাঠি হাতে এসে ভাঙচুর চালায়। সংঘের সদস্য চন্দন পাল জানিয়েছেন, হামলার সময় কার্যালয়ে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা স্লোগান দিতে দিতে দ্রুত চলে যায়। এ সময় সংঘের আসবাবপত্র ও ছবির ফ্রেম ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শবনম শারমিন, পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিন, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইউএনও শবনম শারমিন জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সক্রিয় রয়েছে।

তারিখ: ৩০.১১.২০২৪