চিন্ময়ের পর বাংলাদেশে গ্রেফতার আরও এক সন্ন্যাসী

চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আটক হন ইসকনের সন্ন্যাসী শ্যাম দাস। জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে চিন্ময়কৃষ্ণের মুক্তির দাবিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ চলছে। ঘটনায় ভারতের প্রতিক্রিয়া ও বাংলাদেশের পাল্টা দাবি উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
চিন্ময়ের পর বাংলাদেশে গ্রেফতার আরও এক সন্ন্যাসী

চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আটক হন ইসকনের সন্ন্যাসী শ্যাম দাস। জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে চিন্ময়কৃষ্ণের মুক্তির দাবিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ চলছে। ঘটনায় ভারতের প্রতিক্রিয়া ও বাংলাদেশের পাল্টা দাবি উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের পর এবার আরেক সন্ন্যাসী শ্যাম দাসকে আটক করেছে পুলিশ। ইসকনের কলকাতা মুখপাত্র রাধারমণ দাস এই দাবি করেছেন। তিনি জানান, চিন্ময়কৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে চট্টগ্রাম কারাগারে শ্যাম দাসকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। ইসকন এই ঘটনায় মর্মাহত হয়ে নির্দোষদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত অক্টোবরে চট্টগ্রামে একটি সমাবেশে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপর গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এটি জাতীয় পতাকার অবমাননা। এই অভিযোগটি করেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মহম্মদ ফিরোজ খান। অভিযোগে আরও বলা হয়, চিন্ময়কৃষ্ণ দেশে নৈরাজ্যের পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং অশান্তি উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

পুলিশ ২৫ নভেম্বর ঢাকার বিমানবন্দর থেকে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় জামিনের আবেদন বাংলাদেশ হাই কোর্টে খারিজ হয়ে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চিন্ময়কৃষ্ণের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম এবং রংপুরে এই দাবিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। এসব বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতার এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সঠিক এবং নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের বিবৃতিতে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

তবে, বাংলাদেশ এই বিবৃতিকে দ্বিচারিতা হিসেবে অভিহিত করেছে। বাংলাদেশ সরকারের দাবি, ভারতে সংখ্যালঘুরাও নির্যাতনের শিকার হয়। ভারত এবং বাংলাদেশের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

এদিকে, শ্যাম দাসের আটকের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বেড়েছে। বিক্ষোভকারীরা চিন্ময়কৃষ্ণের মুক্তি দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

তারিখ: ৩০.১১.২০২৪