ভৈরবে ইসকন মন্দিরে হামলা, ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি
Categories:

ভৈরবে ইসকন পরিচালিত মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে তিনজন ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
কিশোরগঞ্জ, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪: কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের রাণীবাজার হলুদপট্টি এলাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) পরিচালিত মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রণয় কর্মকার নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। তিনি সংঘের সদস্য এবং মন্দির পরিচালনার কাজে যুক্ত।
গত শুক্রবার বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মন্দিরের দরজা ও তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে হামলাকারীরা ভগবানের ছয়টি ছবি, শঙ্খ, আচমনপাত্র, মৃদঙ্গ, সোফা, চেয়ার, টেবিল, ঘড়ি এবং ঠাকুরের সিংহাসনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ ছাড়া মন্দিরের বাক্স থেকে ঘণ্টা, কাঁসি, করতাল ও ঝম্প চুরি করা হয়। মামলার এজাহারে এই হামলায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলার সময় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন যুবক লাঠি হাতে এসে ‘ভৈরবে ইসকনের ঠাঁই নাই’ স্লোগান দেন। হামলার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মন্দিরটি সাধারণত সপ্তাহে একদিন, রবিবার প্রার্থনার জন্য খোলা থাকে। অন্যান্য দিন এটি বন্ধ থাকে। ঘটনার সময় মন্দিরটি বন্ধ ছিল।
ঘটনার পর কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শবনম শারমিন ঘটনাস্থলে যান। সেনাবাহিনী এবং র্যাবের সদস্যরাও তদন্তের জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও শবনম শারমিন বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন হাসিবুল হাসান, মো. প্রান্ত এবং মো. সানজিব। হাসিবুল পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সানজিব পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক এবং প্রান্ত উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
তবে গ্রেপ্তারকৃত তিনজন দাবি করেছেন, তারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত নন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইসকনের প্রণয় কর্মকার জানান, সংঘটি ২০০৯ সালে ভৈরবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি ইসকনের একটি প্রচার শাখা। নরসিংদী শাখা থেকে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রার্থনা ও কীর্তন আয়োজন ছাড়াও এটি ধর্মীয় শিক্ষা এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
মন্দিরের ওপর এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় মানুষ এবং ইসকন সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এই ঘটনা ধর্মীয় সম্প্রতির জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন অনেকে।
তারিখ: ৩০.১১.২০২৪