ভিওএ এর ভুয়া জরিপঃ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় 'আগের তুলনায় বেশি নিরাপত্তা (?) পাচ্ছে'

ভিওএ এর ভুয়া জরিপ। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়েস অফ আমেরিকার এক জরিপে দেখা গেছে যে, অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় সংখ্যালঘুদের জন্য বেশি নিরাপত্তা প্রদান করছে। তবে, মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে, হিন্দু সম্প্রদায় এখনও নিরাপত্তার অভাব অনুভব করছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষণীয়।
ভিওএ এর ভুয়া জরিপঃ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় 'আগের তুলনায় বেশি নিরাপত্তা (?) পাচ্ছে'

ভিওএ এর ভুয়া জরিপ। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়েস অফ আমেরিকার এক জরিপে দেখা গেছে যে, অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় সংখ্যালঘুদের জন্য বেশি নিরাপত্তা প্রদান করছে। তবে, মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে, হিন্দু সম্প্রদায় এখনও নিরাপত্তার অভাব অনুভব করছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষণীয়।

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪: অক্টোবর মাসের শেষের দিকে ভয়েস অফ আমেরিকার পরিচালিত এক জরিপে ৬৪.১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশে ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আগের তুলনায় বেশি দিচ্ছে। ১৫.৩ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, এবং ১৭.৯ শতাংশের মতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের মতোই রয়েছে। জরিপে ১,০০০ জনের মতামত নেওয়া হয়, যার মধ্যে ৯২.৭ শতাংশ মুসলিম ছিলেন।

বিশেষত, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সংখ্যালঘু জনগণের ওপর সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা এবং ধর্মীয় স্থানগুলোতে হামলা হয়। মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ শুধু রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের জন্যও হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় কোনো সরকারই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে, পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি পেয়েছে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ সংখ্যালঘুদের উপাসনাস্থল রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এসেছে।

বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধারণা
তবে, জরিপে মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। মুসলিমদের মধ্যে ১৩.৯ শতাংশ মনে করেন পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে, কিন্তু সংখ্যালঘুদের মধ্যে ৩৩.৯ শতাংশ মনে করেন তাদের নিরাপত্তা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে।

ঢাকার বাসিন্দা জয়তী সরকার বলেন, তিনি এখন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, “আগের সরকারের সময় আমি রাতে নিরাপদে চলাফেরা করতাম, কিন্তু এখন রাতে বাড়ি ফেরার সময় ভয় পাই।” একইভাবে, বেসরকারি সংস্থার কর্মী হীরেন পণ্ডিতও মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হলেও, এখনও অনেক ভয় রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং লুটপাটের নিন্দা করেছেন। তবে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব হামলাকে “বিচ্ছিন্ন ঘটনা” হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে যে, সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা অত্যন্ত অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

সংখ্যালঘুদের জন্য আশার আলোকবর্তিকা
অবশ্য, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মধ্যে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। জয়তী সরকার, যিনি আতঙ্কিত হলেও এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করছেন, বলেছেন যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হিন্দুদের জমি বিক্রি করার চাপ ছিল, কিন্তু এখন সে চিত্র পরিবর্তিত হয়েছে।

এছাড়া, গ্রামের এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কিছুটা উন্নতি করেছে বলে হীরেন পণ্ডিত মনে করেন। তবে, তিনি নিজেও সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হতে পারেননি।

সামগ্রিক চিত্র
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনও বিরাজমান। যদিও পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে এগিয়েছে, তবুও বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী ছয় থেকে নয় মাসে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রম সংখ্যালঘুদের প্রতি তাদের আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তারিখ: ২৯.১১.২০২৪