বাংলাদেশ নিয়ে মুলতুবি প্রস্তাব আনতে নোটিশ সৌগত রায়ের, 'অসন্তুষ্ট' মমতা- রিপোর্ট

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির প্রভাব এখন ভারতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলের পাশাপাশি, দমদমের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে আলোচনা চেয়ে মুলতুবি প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন। তবে, এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে সৌগত রায়ের অবস্থানের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এদিকে, বাংলাদেশে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ নিয়ে মুলতুবি প্রস্তাব আনতে নোটিশ সৌগত রায়ের, 'অসন্তুষ্ট' মমতা- রিপোর্ট

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির প্রভাব এখন ভারতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলের পাশাপাশি, দমদমের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে আলোচনা চেয়ে মুলতুবি প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন। তবে, এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে সৌগত রায়ের অবস্থানের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এদিকে, বাংলাদেশে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

কলকাতা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর ভারতেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে, দমদমের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বাংলাদেশ ইস্যুতে সংসদে আলোচনা চেয়ে মুলতুবি প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন। তিনি ভারতের সরকারকে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছেন।

তবে, এই উদ্যোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী, সৌগত রায়ের বিরুদ্ধে কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সংসদে এই বিষয়ে দলের অবস্থান নেওয়া হবে, ব্যক্তিগতভাবে কারও অবস্থানে কিছু যায় আসে না।” মমতা আরও জানান, দলের পক্ষে সংসদে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের শীর্ষ নেতারা, যেমন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। সৌগত রায় বাংলাদেশের সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে এককভাবে সংসদে মুলতুবি প্রস্তাব আনায় দল ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং তাঁকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত সংখ্যালঘু জোট, এই দুটি সংগঠন বর্তমানে ‘বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট’ নামে আন্দোলন করছে। চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে এই জোটের মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে বিএনপি নেতা ফিরোজ খান ৩১ অক্টোবর একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে, গ্রেফতারির পর থেকে একাধিক অভিযোগ উঠেছে যে, চিন্ময় প্রভুকে কারাগারে শারীরিক এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। আরও বলা হচ্ছে, তাকে কারাগারে ওষুধ দেওয়া হয়নি। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ এই গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করেছে এবং মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদী হিন্দুরা রাস্তায় নেমে আসেন।

২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের আদালতে চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারির প্রতিবাদে হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেই সময়ে পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে, এবং এক আইনজীবী নিহত হন। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা অত্যাধিক সহিংসতা প্রদর্শন করেছে। ওই সময় সংঘর্ষের মধ্যে ৮ জন হিন্দু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে এই ইস্যু নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ পেয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, যেখানে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগের থেকে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে, সৌগত রায়ের নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, এবং উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব ভারতেও স্পষ্টভাবে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় সংসদে বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনা চেয়ে মুলতুবি প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগত উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এই ঘটনাটি উভয় দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে প্রতিবাদ ও শোরগোল অব্যাহত রয়েছে।

তারিখ: ২৯.১১.২০২৪