চিন্ময়কৃষ্ণের আইনি অধিকার যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকাকে বার্তা দিল্লির
Categories:

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা নিয়ে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা উদ্বেগজনক। আশা করি, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’’ সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের পর বাংলাদেশে উত্তেজনা নতুনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলিম কট্টরপন্থীদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এই পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪: গত ৫ আগস্ট, বাংলাদেশে জনবিক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ অস্থির হয়ে ওঠে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘আমরা আশা করি চিন্ময়কৃষ্ণের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ হবে। তাঁর আইনি অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।’’
বর্তমানে বাংলাদেশে বিশেষত সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমরা আশা করি, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং তাদের ধর্মীয় স্থানগুলোকে রক্ষা করবে।’’ ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ সংসদে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে বিভিন্ন হিন্দু মন্দির এবং বিগ্রহের উপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দুর্গাপুজো চলাকালীন ঢাকার তাঁতিবাজারের মণ্ডপে আক্রমণ এবং সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে ডাকাতির মতো ঘটনা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি শত্রুতা ও বৈষম্য প্রদর্শন করছে।’’
বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা সাম্প্রতিককালে বেড়ে গেছে এবং ভারত সরকার এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারকে জানায়, ‘‘অথনৈতিক এবং ধর্মীয় ভেদাভেদ এবং সহিংসতার পরিস্থিতি থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিরাপদ রাখতে সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাদের ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’’
এদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, ‘‘ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক এই পরিস্থিতির মধ্যেও অব্যাহত থাকবে।’’ তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সহিংসতার ঘটনা এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ভারত সরকার সবসময় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে এবং সঠিক সময়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং এর প্রভাব নিয়ে ভারত সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, তারা জানায় যে তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষত বাণিজ্যিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। ভারতীয় সরকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আশা ব্যক্ত করেছে যে, তারা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এছাড়া, ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বানে ভারত সরকার ঢাকা সরকারের কাছে প্রস্তাব রেখেছে। এর পাশাপাশি ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের প্রতি একান্তভাবে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তারিখ: ২৯.১১.২০২৪