দূরত্ব নয়, নয়া বিবৃতিতে চিন্ময় কৃষ্ণের আন্দোলনকে সমর্থনের বার্তা বাংলাদেশ ইসকনের

বাংলাদেশের ইসকন কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌর দাস, সদস্য স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস এবং চট্টগ্রাম পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ইসকন স্পষ্ট জানায় যে, চিন্ময় কৃষ্ণ এখন আর ইসকনের সঙ্গে যুক্ত নন, এবং তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি ব্যক্তিগত। এর পরই শুরু হয় বিতর্ক, তবে ইসকন তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানায়, চিন্ময় কৃষ্ণের আন্দোলন এবং তার প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে, কিন্তু তিনি আর তাদের সদস্য নন।
দূরত্ব নয়, নয়া বিবৃতিতে চিন্ময় কৃষ্ণের আন্দোলনকে সমর্থনের বার্তা বাংলাদেশ ইসকনের

বাংলাদেশের ইসকন কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌর দাস, সদস্য স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস এবং চট্টগ্রাম পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ইসকন স্পষ্ট জানায় যে, চিন্ময় কৃষ্ণ এখন আর ইসকনের সঙ্গে যুক্ত নন, এবং তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি ব্যক্তিগত। এর পরই শুরু হয় বিতর্ক, তবে ইসকন তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানায়, চিন্ময় কৃষ্ণের আন্দোলন এবং তার প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে, কিন্তু তিনি আর তাদের সদস্য নন।

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসকন জানায়, কয়েক মাস আগে তাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ইসকনের পক্ষ থেকে প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌর দাস, সদস্য স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস এবং চট্টগ্রাম পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তাদের সাংগঠনিক পদ-পদবীসহ যাবতীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ইসকন আরও জানায়, চিন্ময় কৃষ্ণ ইসকনের মুখপাত্র নয় এবং তাঁর বক্তব্য একান্তই ব্যক্তিগত। ইসকন পরিষ্কারভাবে জানায়, চিন্ময় কৃষ্ণ এখন আর তাদের সাথে যুক্ত নন এবং বাংলাদেশের হিন্দুদের আন্দোলনের সঙ্গে ইসকন কোনভাবে সম্পর্কিত নয়। ইসকনের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকে আলোচনা শুরু হয় যে, ইসকন চিন্ময় কৃষ্ণের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে এবং নিষিদ্ধ হওয়ার ভয়ে হিন্দুদের আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে চাচ্ছে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবারের ঘোষণার পর, বাংলাদেশের হিন্দু সংগঠনগুলো এবং চিন্ময় কৃষ্ণের অনুগামীদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। শুক্রবার সকালে, ইসকন নতুন একটি বিবৃতি দেয় যাতে তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। ইসকনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “চিন্ময় কৃষ্ণের আন্দোলন এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের ধর্মীয় স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি। তবে, আমরা শুধু স্পষ্ট করেছি যে, চিন্ময় কৃষ্ণ এখন ইসকনের সদস্য নন এবং তিনি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করেন না।”

বাংলাদেশে চলতি সপ্তাহে চিন্ময় কৃষ্ণের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে সনাতনীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। জানা গেছে, গত পাঁচ দিন ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করে রেখেছে, এবং তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা চলছে। একদিকে যেমন, চিন্ময় কৃষ্ণের অনুগামীরা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে, অন্যদিকে সরকার পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠছে যে, কিছু সরকারি শক্তির মদতে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইসকন আবারও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় যে, চিন্ময় কৃষ্ণের আন্দোলন বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মীয় স্থানগুলো এবং হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য অব্যাহত রয়েছে, এবং ইসকন এই আন্দোলনকে সমর্থন করে। কিন্তু ইসকন জানিয়ে দিয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ণ এখন তাদের সদস্য নন, এবং তিনি বাংলাদেশে ইসকনের প্রতিনিধিত্ব করছেন না।

ইসকন বাংলাদেশের তরফ থেকে বলা হয়, এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পরই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছিল এবং তা শুধু সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। তবে, ইসকন দাবি করেছে যে, তাদের সিদ্ধান্তের পরও চিন্ময় কৃষ্ণের আন্দোলন এবং তার প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করছে, এবং এটা কোনওভাবেই ইসকনের বিরুদ্ধে না।

অন্যদিকে, সরকারী পক্ষের তরফ থেকে চিন্ময় কৃষ্ণের আন্দোলন এবং তাঁর গ্রেপ্তারির পর হিন্দুদের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। এমনকি, একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হিন্দুদের উপর যে নিপীড়ন চলছে তা সরকারের কাজের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এবং এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

ইসকনের এই সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা চলছে, এবং বিভিন্ন সংগঠন এবং জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে এই অবস্থা আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে, এবং আগামী দিনে কীভাবে পরিস্থিতি উন্নতি হবে তা নিয়ে অস্থিরতা চলছে।

বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ইসকনের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে। এর পরবর্তী সময়ে, চিন্ময় কৃষ্ণের আন্দোলন ও তার গ্রেপ্তার নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, এবং ইসকন তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তবে, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কীভাবে এগিয়ে যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে।

তারিখ: ২৯.১১.২০২৪