ইসকন নিষিদ্ধ করে আ.লীগ ও ভারতকে বার্তা দিতে হবে
Categories:

বাংলাদেশে ভবিষ্যতে ভারতের ‘সেবাদাস’ কাউকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটি ভারতের অনুকম্পায় ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ এনে দাবি করেছে, ইসকন (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস) কে নিষিদ্ধ করতে হবে, এবং আওয়ামী লীগ ও ভারতকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। হেফাজতে ইসলামের নেতারা অভিযোগ করেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে, যা দেশের জনগণের আস্থা এবং স্বার্থের পরিপন্থী।
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪: আজ শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব বক্তব্য প্রদান করা হয়। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সুপরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে আইনজীবী শহীদ সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে, মামুনুল হক বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা রয়েছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা উচিত। তিনি দাবি করেন, সাইফুল হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করা উচিত।
সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হক আরো বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের চেষ্টা করতে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’’ তিনি ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘‘যদি ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে থাকে, তবে এক সময় জনগণ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারত যদি এখনো বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতি বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামবে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হবে।’’
হেফাজতে ইসলামের নেতারা এই সমাবেশে ইসকনকে ‘উগ্রবাদী’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘জঙ্গি সংগঠন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, ভারতের নির্দেশনায় বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তারা সরকারকে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে, মামুনুল হক বলেন, ‘‘যদি সরকার কিংবা বিচার বিভাগ এই বিষয়ে গড়িমসি করে, তবে হেফাজতে ইসলাম বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।’’
এছাড়া, হেফাজতের এই নেতা ভারতের সম্পর্কিত বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘ভারত কখনোই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়নি। তারা সার্ক থেকে একঘরে হয়ে গেছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারত যদি বাংলাদেশের জনগণের বিপ্লবকে অবজ্ঞা করতে থাকে, তাহলে একসময় ভারতের জন্য পরিস্থিতি খারাপ হবে।’’
তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতের অন্যান্য নেতারা, যারা বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
হেফাজতে ইসলামের নেতারা তাদের বক্তব্যে এই ঘটনাকে এক সামগ্রিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাবেশের শেষে হেফাজতে ইসলাম সতর্ক করে দেয় যে, ভারতীয় মদদপুষ্ট রাজনীতির কোনো উপাদান বা রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে তা দেশে বড় ধরনের অস্থিরতার সৃষ্টি করবে।
তারিখ: ২৯.১১.২০২৪