ইসকনের সাথে যুক্ত থাকায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাসপেন্ড পড়ুয়া!
Categories:

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ইসকনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সময় চট্টগ্রাম আদালতের সামনে ছিলেন। এরই মধ্যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর থেকে বাংলাদেশে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও উঠছে।
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪: চট্টগ্রামের বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে ইসকনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে। প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, সাসপেন্ড হওয়া শিক্ষার্থী আইন বিভাগের ছাত্র এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি চট্টগ্রামের আদালতের সামনে ছিলেন যখন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম খুন হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, ওই শিক্ষার্থী ইসকনের সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং তাঁর বিরুদ্ধে সাসপেন্ড করার দাবি তুলেছিলেন তারা। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সালাউদ্দিন শাহরিয়ার জানান, শিক্ষার্থীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী।
এদিকে, চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম উত্তাল হয়ে ওঠে। এ সময় বাংলাদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে কট্টরপন্থী সংগঠনগুলো আন্দোলনে নামে। জুলাই মাসে বিল্পবের ছাত্র নেতারা ইসকনের বিরুদ্ধে সরব হন এবং সারজিস আলম নামে এক ব্যক্তিও ইসকন এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়েছেন। এসব পরিস্থিতির মধ্যে, ওই শিক্ষার্থীকে সাসপেন্ড করার দাবি উঠেছিল।
এর আগে, বাংলাদেশে গ্রেফতার করা হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে। তাঁর গ্রেফতারির পর, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত সংখ্যালঘু জোট একত্রে ‘বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট’ গঠন করে আন্দোলন করছে। এই আন্দোলনের মুখপাত্র করা হয়েছে চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে, যিনি গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে একটি সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। ওই সমাবেশে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগে বিএনপি নেতা ফিরোজ খান গত ৩১ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর ঢাকা পুলিশ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে গ্রেফতার করে এবং তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়।
চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারির পর, তাঁর জন্য সহানুভূতি এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তবে, অভিযোগ উঠেছে যে, এই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরকারী পক্ষ থেকে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। অভিযোগ, গ্রেফতারির পর চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে কারাগারে ওষুধ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি, এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের আদালতে চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারির প্রতিবাদে হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ওই সময় পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে, যার ফলে এক আইনজীবী নিহত হন। এই ঘটনায় পুলিশ ৮ জন হিন্দু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে, আন্দোলনকারীরা দাবি করছে যে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অত্যাচার চালিয়েছে এবং সরকার সমর্থিত গোষ্ঠীগুলি সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। তবে, পুলিশ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, লাঠিচার্জ একান্তই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ছিল এবং এর সাথে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বৈরী মনোভাবের কোনও সম্পর্ক নেই।
বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন আন্দোলনকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর সহিংসতা চালানোর অভিযোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।
চট্টগ্রামে ইসকনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, যা চট্টগ্রামে চলমান উত্তেজনা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় উত্তেজিত এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, এবং পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে।
তারিখ: ২৯.১১.২০২৪