চিন্ময়কৃষ্ণের সঙ্গে দূরত্ব নয়, তাঁকে সমর্থন করে ইসকন, নতুন বার্তা ইসকনের

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বাংলাদেশে গ্রেফতার হওয়া চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে নিয়ে ইসকনের অবস্থান এক দিনের ব্যবধানে বদলেছে। বৃহস্পতিবার ইসকন বাংলাদেশ জানায়, চিন্ময়কৃষ্ণ তাদের প্রতিনিধি নন। তবে শুক্রবার তারা তাঁর প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে নতুন বিবৃতি দেয়। চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতার ঘিরে দেশে উত্তেজনা চলছে। চট্টগ্রাম ও রংপুরে বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এর মধ্যে ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে চাওয়া মামলাও হাই কোর্টে খারিজ হয়েছে।
চিন্ময়কৃষ্ণের সঙ্গে দূরত্ব নয়, তাঁকে সমর্থন করে ইসকন, নতুন বার্তা ইসকনের

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বাংলাদেশে গ্রেফতার হওয়া চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে নিয়ে ইসকনের অবস্থান এক দিনের ব্যবধানে বদলেছে। বৃহস্পতিবার ইসকন বাংলাদেশ জানায়, চিন্ময়কৃষ্ণ তাদের প্রতিনিধি নন। তবে শুক্রবার তারা তাঁর প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে নতুন বিবৃতি দেয়। চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতার ঘিরে দেশে উত্তেজনা চলছে। চট্টগ্রাম ও রংপুরে বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এর মধ্যে ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে চাওয়া মামলাও হাই কোর্টে খারিজ হয়েছে।

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে নিয়ে এক দিনের ব্যবধানে অবস্থান বদল করেছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)। বৃহস্পতিবার ইসকন বাংলাদেশ জানিয়েছিল, চিন্ময়কৃষ্ণ তাদের সদস্য বা প্রতিনিধি নন, এবং তাঁর কোনো কাজের দায়ভার ইসকন নেবে না। তবে শুক্রবার সকালে নতুন এক বিবৃতিতে ইসকন জানায়, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের প্রচেষ্টা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তাদের সমর্থন রয়েছে।

ইসকনের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে মাস কয়েক আগে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসসহ কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাই তাঁর কোনো কর্মকাণ্ডের দায় ইসকনের নয়।’’ তবে শুক্রবারের বিবৃতিতে জানানো হয়, চিন্ময়কৃষ্ণের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে ইসকন, যদিও তিনি সংগঠনের প্রতিনিধি নন।

চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গত সোমবার রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। চট্টগ্রামের এক বিএনপি নেতা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, চিন্ময়কৃষ্ণ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ করেছেন। আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।

চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতারের পর থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। চট্টগ্রাম ও রংপুরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। চট্টগ্রামে সংঘর্ষে এক আইনজীবী নিহত হন। এর মধ্যেই ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে চেয়ে হাই কোর্টে একটি মামলা হয়। আদালতে বাংলাদেশ সরকার ইসকনকে ‘ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠন’ বলে উল্লেখ করে। তবে হাই কোর্টে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

চিন্ময়কৃষ্ণ দাস সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলন চলছিল। চট্টগ্রামের সমাবেশে তাঁর ডাকে হাজার হাজার সংখ্যালঘু অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার এবং সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটেনের সংসদেও এ প্রসঙ্গ উঠেছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর একাধিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং লুটপাটের মতো ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ইউনূস পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরিস্থিতি এখনো জটিল রয়ে গেছে।

তারিখ: ২৯.১১.২০২৪