বাংলাদেশে ‘উগ্র বক্তব্যের ঢেউ’ ও সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত
Categories:

ভারত বাংলাদেশে ‘উগ্র বক্তব্যের ঢেউ’ এবং ‘সহিংসতা ও উসকানির ঘটনা বৃদ্ধির’ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এই ঘটনাগুলোকে শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের অতিরঞ্জন হিসেবে খারিজ করা যায় না। ভারত আরও জানিয়েছে, সাবেক ইসকন সদস্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছে তারা।
নয়াদিল্লি, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪: শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে উগ্র বক্তব্যের ঢেউ, সহিংসতা ও উসকানির ঘটনা ক্রমবর্ধমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এসব বিষয়কে শুধু মিডিয়ার অতিরঞ্জন হিসেবে খারিজ করা যায় না।’’
ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় যে, বাংলাদেশ সরকারকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জয়সোয়াল বলেন, ‘‘সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে হামলা ও হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে ভারত বাংলাদেশ সরকারের কাছে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এটি একটি উদ্বেগজনক বিষয় এবং আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট—বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই সকল সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’’
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে সম্প্রতি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং তার আইনি অধিকার সুরক্ষিত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছে ভারত। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে, জয়সোয়াল বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি, আইনগত প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, ন্যায়সঙ্গত এবং স্বচ্ছতার মধ্যে দিয়ে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট সকলের আইনি অধিকার সুরক্ষিত থাকে।’’
এছাড়া, বাংলাদেশে ইসকন সংগঠন নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘ইসকন একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক সংগঠন, যাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী রয়েছে।’’
ভারত বাংলাদেশ সরকারকে পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে, তাদের দেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও স্বার্থ নিশ্চিত করতে। বাংলাদেশের সরকারের প্রতি এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং শক্তিশালী বলে জানায় ভারত।
এদিকে, ভারত-বাংলাদেশ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে, জয়সোয়াল বলেন, ‘‘যখন এই বৈঠক হবে, তখন আপনাদের জানানো হবে।’’
এই বিবৃতির মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তারিখ: ২৯.১১.২০২৪