চিন্ময়কৃষ্ণের প্রসঙ্গ ব্রিটেনের সংসদেও, বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের নিন্দা, উদ্বেগপ্রকাশ

বাংলাদেশে ইসকনের সঙ্গে যুক্ত চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার নিয়ে ব্রিটেনের সংসদে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী সাংসদরা সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। ইসকনের পক্ষে সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানিয়ে সন্ন্যাসীর মুক্তির দাবি করা হয়েছে।
চিন্ময়কৃষ্ণের প্রসঙ্গ ব্রিটেনের সংসদেও, বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের নিন্দা, উদ্বেগপ্রকাশ

বাংলাদেশে ইসকনের সঙ্গে যুক্ত চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার নিয়ে ব্রিটেনের সংসদে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী সাংসদরা সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। ইসকনের পক্ষে সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানিয়ে সন্ন্যাসীর মুক্তির দাবি করা হয়েছে।

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নেতা এবং আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সঙ্গে যুক্ত চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার প্রসঙ্গ ব্রিটেনের সংসদেও উঠে এসেছে। বিরোধী কনজ়ারভেটিভ দলের সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান এই বিষয়টি সংসদে তুলে ধরে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের অভিযোগের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বব ব্ল্যাকম্যান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর এই ধরনের অত্যাচার মেনে নেওয়া যায় না।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে ইসকন পরিচালিত সবচেয়ে বড় হিন্দু মন্দির রয়েছে, এবং এর সঙ্গে যুক্ত এক ধর্মীয় নেতা বাংলাদেশে গ্রেফতার হয়েছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে তিনি ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

সংসদে আরও আলোচিত হয় যে, বাংলাদেশের হাই কোর্টে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার জন্য একটি মামলা হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশ সরকার ইসকনকে ‘ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠন’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে ওই মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ইসকন জানায়, চিন্ময়কৃষ্ণ দাস তাদের প্রতিনিধি নন। কিন্তু পরে তারা তাঁর পাশে থাকার বার্তা দেয়।

ব্রিটিশ সংসদের আলোচনায় বিরোধী সাংসদরা ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। যদিও ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বাংলাদেশে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গত সোমবার গ্রেফতার করা হয়। তাঁর জামিন আবেদন চট্টগ্রামের আদালত খারিজ করে দেয়। এরপর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষত চট্টগ্রাম এবং রংপুর এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ইসকনের তরফে গত বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছিল, চিন্ময়কৃষ্ণ দাস তাদের প্রতিনিধি নন। তবে শুক্রবার তারা নতুন করে জানায়, তারা এই ধর্মীয় নেতার পাশে রয়েছে। এর মধ্যেই ভারতে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমশ চাপ বাড়ছে। ব্রিটিশ সংসদের এই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও আলোচিত হতে শুরু করেছে।

তারিখ: ২৯.১১.২০২৪