জেলে ভরেই খান্ত হল না বাংলাদেশ, চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা
Categories:

বাংলাদেশ হাইকোর্টে ইসকন নিষিদ্ধ করার দাবিতে করা রিট পিটিশন খারিজ হওয়ার পরও, ইসকনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি সম্প্রতি বাংলাদেশে গ্রেফতার হয়েছেন। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ১৭ জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আগামী ৩০ দিনের জন্য ফ্রিজ করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, এবং প্রতিবাদও শুরু হয়েছে। (সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস)
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে ইসকন নিষিদ্ধ করার দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন খারিজ হয়েছে, তবে এর পরেও এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ১৭ জন ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ৩০ দিনের জন্য ফ্রিজ করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে আছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি সম্প্রতি বাংলাদেশের পুলিশ দ্বারা গ্রেফতার হন। এছাড়া, আরও ১৬ জনের নামও এই তালিকায় রয়েছে, যাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন আগামী এক মাসের জন্য বন্ধ থাকবে।
বিএফআইইউ-এর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন - কার্ত্তিক চন্দ্র দে, অনিক পাল, সরোজ রায়, সুশান্ত দাস, বিশ্ব কুমার সিংহ, চণ্ডীদাস বালা, জয়দেব কর্মকার, লিপি রানী কর্মকার, সুধামা গৌর দাস, লক্ষণ কান্তি দাশ, প্রিয়তোষ দাশ, রূপন দাস, রূপন কুমার ধর, আশীষ পুরোহিত, জগদীশ চন্দ্র অধিকারী এবং সজল দাস। এদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলির থেকে চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ আয়োজিত এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, যে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন। এই অভিযোগে বিএনপি নেতা ফিরোজ খান একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে চিন্ময় দাস এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। এরপর ২৫ নভেম্বর, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ ওঠে, এর মধ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ তার গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করেছে এবং তার মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে কয়েক হাজার হিন্দু রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
২৬ নভেম্বর, চট্টগ্রামের আদালতের বাইরে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বিশাল জমায়েত ঘটেছিল, যেখানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদ করা হচ্ছিল। এই প্রতিবাদে পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে, এবং এক আইনজীবী নিহত হন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৬ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ জন হিন্দু গ্রেফতার হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজিত করেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে এই ঘটনার প্রভাব সুস্পষ্টভাবে পড়ছে। ইসকনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের পর, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে শোরগোল শুরু হয়েছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক স্তরে অনেক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে, এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডের দিকে গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
এদিকে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের ঘটনায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিএফআইইউ-এর পদক্ষেপটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে, তবে এর ফলে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে ইসকন নিষিদ্ধ করার দাবিতে করা রিট পিটিশন খারিজ হওয়ার পর, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৭ জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এ ঘটনাটি বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, এবং প্রতিবাদে নামা হাজারো হিন্দুর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রামে পুলিশের লাঠিচার্জে এক আইনজীবী নিহত হন, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
তারিখ: ২৯.১১.২০২৪