কর্তৃপক্ষের তৎপরতা যেন জারি থাকে: হাইকোর্ট

চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় একজন আইনজীবীর হত্যার পর তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সরকার এই বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছে বলে হাইকোর্টে জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তৎপরতা যেন জারি থাকে: হাইকোর্ট

চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় একজন আইনজীবীর হত্যার পর তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সরকার এই বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছে বলে হাইকোর্টে জানিয়েছে।

ঢাকা, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪: চট্টগ্রামে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই মামলায় মোট ৭৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ছয়জনকে শনাক্ত করা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের বেঞ্চে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, সরকার এই বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, পুলিশ তিনটি মামলা দায়ের করেছে। একটি মামলায় ১৩ জন, আরেকটিতে ১৪ জন এবং তৃতীয় মামলায় ৪৯ জনের নাম রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও তথ্য উদ্ঘাটন করা হচ্ছে।

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার বিষয়ে হাইকোর্টে আইনজীবী মো. মনির উদ্দিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন তুলে ধরে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশের আবেদন জানান। একই সঙ্গে তিনি ইসকন নিষিদ্ধ করার এবং চট্টগ্রাম, দিনাজপুর ও রংপুরে আপাতত ১৪৪ ধারা জারি করার প্রস্তাব দেন।

হাইকোর্ট এই বিষয়ে রাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপ দেখে আশ্বস্ত হয়েছে। আদালত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা শুনে আশ্বস্ত হলাম যে, সরকার এই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে তৎপর থাকতে হবে। এই দায়িত্ব সরকারের।”

এদিকে, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক জানান, সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আদালতে বলেন, “যদি কোনো ঘাটতি পাওয়া যায়, তাহলে তা ভিন্ন বিষয় হবে।”

ইসকন নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে আইনজীবী মনির উদ্দিন বলেন, “ইসকনের কার্যক্রম উচ্ছৃঙ্খল। এখনই যদি নিষিদ্ধ করা না হয়, ভবিষ্যতে তা আরও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণ হতে পারে।”

আদালত এ প্রসঙ্গে বলেন, “দেশের মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ। বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে। এই সম্পর্ক ভেঙে যাবে না।”

রাষ্ট্রপক্ষ এবং আইনজীবীদের শুনানিতে আদালত আশ্বাস দেয় যে, সংবিধান রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রাষ্ট্র যেহেতু এ বিষয়ে কাজ করছে, তাই এখন আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রামের ঘটনার পর পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

তারিখ: ২৯.১১.২০২৪