'চিন্ময়কৃষ্ণ বা সনাতনী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনও বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না', কড়া বিবৃতি ইসকনের
Categories:

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে হিন্দু সম্প্রদায়, যারা চিন্ময় দাসের মুক্তি দাবি করছেন। ইসকন বাংলাদেশ তাদের গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ঢাকা, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরিক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় এর প্রতিবাদে পথে নেমেছে, তবে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষও চলছে। এই প্রতিবাদী আন্দোলন এখন সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে জামাত সমর্থকরা এবং পুলিশও এতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেফতার হওয়ার পর বাংলাদেশের হিন্দু সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় অধিকার ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে নিয়মিত সোচ্চার চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সম্প্রতি সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন। তিনি “বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট” এর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে আসছিলেন এবং দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার নিয়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার গ্রেফতারির পর থেকেই একে একে প্রতিবাদী বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়, যা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর্যায়ে চলে আসে।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে, এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়েছে। ভারত সরকার এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তা অবিলম্বে সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাল্টা জবাব হিসেবে বাংলাদেশ সরকারও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তবে, ইসকন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে আরও কঠোর বিবৃতি এসেছে।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসায়নেস (ইসকন)-এর বাংলাদেশ শাখা জানায়, তারা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তাদের মতে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও নিষ্ঠাবান ধর্মীয় নেতা, যিনি সব সময় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার পক্ষে কথা বলেছেন এবং কাজ করেছেন। ইসকন বাংলাদেশ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে সোচ্চার ছিলেন।”
ইসকন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এবং সনাতন সম্প্রদায় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার পেতে উত্সুক। তাদের সাথে কোনো ধরনের বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না এবং আমরা চাই বাংলাদেশের সরকার এই বিষয়টি নিশ্চিত করুক যে, সংখ্যালঘুদের অধিকার সমুন্নত থাকবে।”
এদিকে, এই গ্রেফতারির পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এক নতুন উদ্বেগের সঞ্চার হয়েছে। তারা দাবি করছে যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলনের উপর আঘাত। তাদের ভাষায়, এটি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি অবিচারের একটি নিদর্শন।
বিভিন্ন জেলা ও শহরে চলছে বিক্ষোভ-অবরোধ। বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি দাবি করছে এবং ধর্মীয় অধিকার রক্ষার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ হতে চাইলেও পুলিশ এবং জামাত সমর্থকরা এতে হস্তক্ষেপ করছে, ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এদিকে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির ফলে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারী বাহিনীর এই পদক্ষেপ থেকে এমন কিছু বার্তা আসছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি, ফলে এই পরিস্থিতি কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের আন্দোলন, এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশে এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন এই পরিস্থিতির কী পরিণতি হয় এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার জন্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা পর্যবেক্ষণ করার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারিখ: ২৯.১১.২০২৪