চিন্ময় প্রভুর দায় ঝেড়ে ফেলা হয়নি, বিতর্ক হতেই সাফাই ইসকনের!

বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর ইসকন সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ইসকন বাংলাদেশ জানায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বর্তমানে তাদের প্রতিনিধি নন, তবে তার অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। ইসকনের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে এবং সংগঠনটি বাংলাদেশের হিন্দুদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছে। ব্রিটিশ সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যানও বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চিন্ময় প্রভুর দায় ঝেড়ে ফেলা হয়নি, বিতর্ক হতেই সাফাই ইসকনের!

বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর ইসকন সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ইসকন বাংলাদেশ জানায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বর্তমানে তাদের প্রতিনিধি নন, তবে তার অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। ইসকনের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে এবং সংগঠনটি বাংলাদেশের হিন্দুদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছে। ব্রিটিশ সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যানও বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ঢাকা, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতারির পর, ইসকন সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ের উপর একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস জানিয়েছেন যে, বর্তমানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ইসকনের কোনো প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই ঘোষণার পর, সংগঠনটি আরও স্পষ্টভাবে জানায় যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার ওই ব্যক্তির।

তবে, ইসকনের এই বক্তব্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, ইসকন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি করার মাধ্যমে, বাংলাদেশে সংগঠনের নিষিদ্ধ করার দাবি উত্থাপিত হওয়ার পর তার দায়ভার এড়িয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক ঘণ্টা পরে ইসকন একটি সংশোধিত বিবৃতি দেয়, যেখানে তারা স্পষ্টভাবে জানায় যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের দায় ঝেড়ে ফেলা হয়নি। বরং, ইসকন শুধু জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমানে তিনি ইসকনের প্রতিনিধি নন। গত কয়েক মাস ধরেই এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল।

ইসকনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হৃষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস জানান, গত জুলাই মাসে তাকে ইসকন বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইসকনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস শান্তিপূর্ণভাবে হিন্দুদের এবং তাদের ধর্মীয় স্থানগুলোকে রক্ষা করার জন্য যে ডাক দিয়েছিলেন, সেটি তার অধিকার এবং স্বাধীনতা। ইসকন এই অধিকার এবং স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন জানায় এবং এখনও তা অব্যাহত রেখেছে।

ইসকন আরও জানিয়েছে, সংগঠনটি বাংলাদেশের হিন্দুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে, ঠিক যেমন অন্যান্য সনাতনী সংগঠনগুলোও একই দাবি করেছে। সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে ইসকন কোনো দূরত্ব তৈরি করেনি এবং তাদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ইসকনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা বহুবার প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি পরিষ্কার করেছি, এবং আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বর্তমানে সরকারিভাবে বাংলাদেশের ইসকনের প্রতিনিধিত্ব করছেন না।”

এদিকে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চলমান হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। ব্রিটেনের কনভারভেটিভ পার্টির সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে ইসকন নিষিদ্ধ করার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, তাতে আমি গভীর উদ্বিগ্ন। ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে, এবং তা বিশ্বের প্রতিটি দেশে রক্ষা করা উচিত।”

বাংলাদেশে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে, বিভিন্ন সনাতনী সংগঠন ও হিন্দু নেতারা দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জীবন রক্ষা করতে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, ইসকনও দাবি করেছে যে, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে হিন্দুরা বসবাস করতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি এবং বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা ইসকনের তরফে তীব্রভাবে নিন্দিত হলেও, তারা নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, তারা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অধিকার এবং স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও জানিয়ে যাবে।

তারিখ: ২৯.১১.২০২৪