কলকাতার রাস্তায় হুঙ্কার সনাতনীদের, পুলিশের সঙ্গে ধুন্ধুমার

বাংলাদেশে ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পর, সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসকন কর্তৃপক্ষও প্রতিবাদে নেমেছে। কলকাতার ইসকন কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে কীর্তনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হবে। ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস বাংলাদেশে ভক্তদের ওপর সেনা-পুলিশের নির্যাতন ও আটকানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কলকাতার রাস্তায় হুঙ্কার সনাতনীদের, পুলিশের সঙ্গে ধুন্ধুমার

বাংলাদেশে ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পর, সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসকন কর্তৃপক্ষও প্রতিবাদে নেমেছে। কলকাতার ইসকন কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে কীর্তনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হবে। ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস বাংলাদেশে ভক্তদের ওপর সেনা-পুলিশের নির্যাতন ও আটকানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কলকাতা, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেফতারি ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পর সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতার ইসকন কর্তৃপক্ষও সরব হয়েছে। কলকাতায় ইসকন কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আলবার্ট রোডে এক বিশাল কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে, যার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হবে।

ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস এদিন সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, “বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইসকন ভক্তরা আতঙ্কিত। তাদের বেছে বেছে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনা এবং পুলিশ।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে সন্ন্যাসীদের গ্রেফতারি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চলা নির্যাতন পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত করেছে। চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারির পর সেখানে আরও এক সন্ন্যাসী স্বরূপ দাশের গ্রেফতারি পরিস্থিতি আরও জটিল করে দিয়েছে, যা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ইসকন কর্তৃপক্ষ বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাধারমন দাস জানান, “বাংলাদেশে ইসকন ভক্তরা খুব আতঙ্কিত। তাদের লক্ষ্য করে নির্যাতন চলছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ।”

এদিকে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর বাংলাদেশের সরকার ইসকনকে নিষিদ্ধ করার আবেদন জানায়। তবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাই কোর্টে এই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আদালতের এই সিদ্ধান্তে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, ইসকন ভক্তরা এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। আদালত জানায়, ইসকনের কার্যকলাপে আপাতত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

এছাড়া, বাংলাদেশে ইসকন ভক্তদের গ্রেফতারি এবং সেনা-পুলিশের নির্যাতন আরও বাড়তে থাকলে, ইসকন কর্তৃপক্ষ আরও পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাধারমন দাসও এই প্রসঙ্গে বলেন, “এটা খুবই উদ্বেগের বিষয় যে, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর এমন অত্যাচার চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভক্তদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা খুবই জরুরি।”

এদিকে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে যে, তারা যেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং নির্যাতন বন্ধ করে।

এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্য চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে ইসকন কর্তৃপক্ষের প্রতিবাদ এবং ভারতের পক্ষ থেকে ওই বিষয়গুলো উত্থাপন করলে, কিছুটা হলেও এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ সরকার এই সংকট মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং ইসকনের ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের ওপরের চাপ কতটা প্রভাবিত হয়।

তারিখ: ২৯.১১.২০২৪