'বাংলাদেশের ঘটনায় এক লাখ হিন্দুর জমায়েত, সীমান্ত সিলের' হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
Categories:

বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেফতারির প্রতিবাদে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপির পক্ষ থেকে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিদেশমন্ত্রক থেকে কড়া বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিবাদে শহর জুড়ে বিক্ষোভ এবং মিছিলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ অন্যান্য নেতারা সরব হয়েছেন, এবং কলকাতায় এক লাখ মানুষের জমায়েতের আহ্বান জানিয়েছেন।
কলকাতা, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের চট্টগ্রামে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার করার পর উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। হিন্দু সন্ন্যাসীর গ্রেফতারির ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি। গতকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে বিজেপি, এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, তারা বিদেশমন্ত্রককে এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে অনুরোধ করেছেন। এছাড়া, বিধানসভায়ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বিজেপি, এবং আগামী কয়েকদিনে আরও একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী প্রথম থেকেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি এদিন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ লেখেন, “কয়েক ঘণ্টার নোটিসেই কলকাতার বুকে বহু সনাতনী জমায়েত করেছেন। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর মৌলবাদী অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা চলছে। আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” তিনি জানান, আগামীকাল বাংলাদেশ হাই কমিশনারের কাছে মিছিল করার পরিকল্পনা করেছেন।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “কলকাতার রাস্তায় হাজার হাজার হিন্দু জমায়েত করবেন। শিয়ালদা স্টেশন থেকে ডেপুটি হাই কমিশন পর্যন্ত মিছিল হবে, যেখানে এক লাখ হিন্দু যোগ দেবেন। এর পর, পেট্রাপোলের কাছে বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করে দেওয়া হবে। আমদানি-রফতানি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হবে।”
এই ঘটনার পর, ভারত সরকারের বিদেশমন্ত্রক থেকে একটি কড়া বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, “এটি দুর্ভাগ্যজনক যে, একদিকে যখন অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তখন অন্যদিকে একজন শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় গুরু, যিনি যুক্তিসঙ্গত দাবি তুলছেন, তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমরা শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি এবং সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি।”
এই বিবৃতি তুলে ধরে বিদেশমন্ত্রক আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং তাদের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষিত রাখা সরকারের দায়িত্ব। এই ঘটনায় তাদের দৃষ্টি গভীরভাবে রয়েছে, এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন, এবং তাঁর গ্রেফতারির ঘটনা বহু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তার গ্রেফতারির প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদ-মিছিল এবং হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় একের পর এক সহিংসতার অভিযোগ উঠছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতা-কর্মীরা আরও একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ বন্ধ করার জন্য তারা ভারতের সরকারকে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবাদ করার জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা এবং উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখন দেখার বিষয়।
তারিখ: ২৯.১১.২০২৪