'চিকিৎসা নেওয়ার জন্য করাচি-লাহোরে যান', বাংলাদেশ ইস্যুতে কড়া বার্তা শুভেন্দুর
Categories:

বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণদাস প্রভুর গ্রেফতারের ঘটনায় উত্তাল হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। এই ঘটনার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়কেরা বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের অফিসে যান এবং সন্ন্যাসীর মুক্তির দাবি জানান। ডেপুটি হাই কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। (সূত্রঃ এবিপি লাইভ)
কলকাতা, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণদাস প্রভুর গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে দুই বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়কেরা বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের অফিসে যান এবং সন্ন্যাসীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
ডেপুটি হাই কমিশনের অফিস থেকে বেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। এই ধরনের ভারত-বিরোধী আচরণ ও হিন্দু নিধনের ঘটনাগুলি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি, এনাফ ইজ এনাফ।”
চিন্ময় কৃষ্ণদাস প্রভুকে গ্রেফতারের ঘটনাকে “মিথ্যা মামলা” বলে অভিহিত করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “চিন্ময় প্রভু একজন রাষ্ট্রবাদী বৈষ্ণব প্রচারক। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। এটা মৌলবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র।”
বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক প্রশাসকের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “এই প্রশাসক ভারতকে আক্রমণ করেছেন। আমি স্পষ্ট বলছি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার আগে ভেবে দেখা উচিত। ভিসা বন্ধ করা, আমদানি-রপ্তানি থামানো—এ সব পদক্ষেপ নিতে আমরা প্রস্তুত।”
শুভেন্দু আরও জানান, “হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ, মন্দির ধ্বংস, এবং সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায়, আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হবে। বাংলাদেশের প্রশাসনকে আমাদের দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। আমি এখান থেকে দাবি করছি, ভিসা একশো শতাংশ বন্ধ করুন। আমরা প্রয়োজন হলে একদিন অপেক্ষা করে ভিসা দফতরেও যাব। সম্পূর্ণভাবে ভিসা দেওয়া বন্ধ করুন। আমদানি-রফতানি পরামিট ইস্যু করা বন্ধ করুন। বাকিটা আমরা বর্ডারে করব সোমবার থেকে। বলে দিলাম। চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে নিঃশর্ত মুক্তি, হিন্দুদের ওপর আক্রমণ-মন্দির ভাঙা বন্ধ করুন। আর এই ধরনের নাবালকদের (মন্ত্রীর উল্লেখ করে) যাঁদের ওখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে বসিয়েছেন, এই নাবালক যাঁরা মন্ত্রীর পদমর্যাদার তাঁদের এ ধরনের ভারত-বিরোধী কথা বলা বন্ধ করুন। আর চিকিৎসা নেওয়ার জন্য করাচি-লাহোরে যান। এখানে আসবেন না। পরিষ্কার বলে দিতে চাই আমরা।"
বিজেপি নেতার এই বক্তব্যের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে।
তারিখ: ২৯.১১.২০২৪