ইসকনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, দেশজুড়ে সংখ্যালঘু বিক্ষোভ
Categories:

বাংলাদেশে ইসকনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা হাই কোর্টে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। সংখ্যালঘু নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইসকন নিষিদ্ধ করার আবেদন হাই কোর্ট খারিজ করেছে। ঘটনায় এক আইনজীবীর মৃত্যু ও ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশ সরকার ইসকনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করেছে। সংখ্যালঘু নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর থেকেই দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। চিন্ময়কৃষ্ণের মুক্তির দাবিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার দেশের হাই কোর্টে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছিল। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি দেবাশিস রায় চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে এ মামলার শুনানি হয়। আদালত জানায়, ইসকনের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তারা কোনো নির্দেশ দেবে না। পরে মামলাটি খারিজ হয়।
ইসকনের কলকাতা শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস এ সিদ্ধান্তকে “আনন্দের খবর” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, নিষিদ্ধের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
চট্টগ্রামে চিন্ময়কৃষ্ণের নেতৃত্বে সংখ্যালঘুদের সমাবেশের পর তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা হয়। বিএনপির এক স্থানীয় নেতা এই অভিযোগ আনেন। সোমবার তাকে গ্রেফতার করা হলে তার সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন চিন্ময়কৃষ্ণকে আদালতে হাজির করার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আইনজীবীদের সঙ্গে তার সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন আইনজীবী নিহত হন।
চট্টগ্রাম ও রংপুরে জরুরি অবস্থা জারি করার আবেদনও জানানো হয়েছিল। তবে আদালত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ইউনূস-পরিচালিত অন্তবর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। দেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। তবে সরকার বারবার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইসকনের বিরুদ্ধে মামলার প্রত্যাহার এবং চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতারি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা।
তারিখ: ২৯.১১.২০২৪