বাংলাদেশ নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থানের পাশেই তৃণমূল: অভিষেক! উপদূতাবাসে স্মারকলিপি শুভেন্দুর
Categories:

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ভারত সরকার যে অবস্থান নেবে, তৃণমূল সেটিকে সমর্থন করবে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ চলছে। এদিকে, শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশ উপদূতাবাসে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন। (সূত্রঃ আনন্দবাজার)
কলকাতা, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয় পক্ষই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বুধবার দিল্লিতে, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিতে এসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা বিদেশের ব্যাপার, আমরা এর মধ্যে মন্তব্য করতে চাই না। তবে তৃণমূলের অবস্থান পরিষ্কার, ভারত সরকার যে পদক্ষেপ নেবে, তৃণমূল তাকে সমর্থন করবে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বাংলাদেশে যে ঘটনা ঘটেছে, তা “দুর্ভাগ্যজনক।” চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের ছ’টি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয় পাওয়ার পর, রাজ্য সরকারের শাসক দল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। যদিও এদিকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের শাসক দলের অবস্থান খুবই পরিষ্কার: তারা কেন্দ্রের সঙ্গে একমত।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানই নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের অঙ্গীকারও স্পষ্ট করেছে। এর আগে, গত আগস্টে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পরও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নেবে, রাজ্য সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলবে। এবার তার ভাইপো, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এই পরিস্থিতিতে আরও জোরালো বিরোধিতা করছে। বিজেপির রাজ্য বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বুধবার বাংলাদেশ উপদূতাবাসে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন, যাতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “চিন্ময় কৃষ্ণকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে এবং দ্রুত আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি, কিন্তু যদি ফল না হয়, আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরায়ও বাংলাদেশের বিষয় নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। তিনি সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন এবং সম্প্রতি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সংখ্যালঘুদের এক সমাবেশ আয়োজন করেছিলেন। তার পরেই তাকে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। গত সোমবার তার জামিনের আবেদন খারিজ করা হয় এবং বুধবার বাংলাদেশের হাই কোর্টে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদে বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবারের এক সংঘর্ষে একজন আইনজীবী নিহত হয়েছেন, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা সীমান্তের কাছেও বাংলাদেশে পরিস্থিতি নিয়ে বিক্ষোভ দেখা গেছে, যা অঞ্চলটির রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং তা তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তারিখ: ২৮.১১.২০২৪