পুলিশের তিন মামলা, ফুটেজ দেখে হত্যায় জড়িত সাতজন শনাক্ত
Categories:

চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের পর পুলিশের ওপর হামলা ও এক আইনজীবীকে হত্যা করা হয়। ঘটনায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এর মধ্যে সাতজন আইনজীবী হত্যায় জড়িত। মামলায় মোট ১,৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪: চট্টগ্রামের আদালত ভবনের কাছাকাছি আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ৭৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১,৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় বুধবার বিকেলে পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করে এবং ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নগরের কোতোয়ালি এলাকার বান্ডিল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
চট্টগ্রাম পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা হয়েছে সাতজনকে, যারা সাইফুল ইসলামের উপর হামলা চালিয়েছিল। তারা হলেন রুমিত দাশ, সুমিত দাশ, গগন দাশ, নয়ন দাশ, বিশাল দাশ, আমান দাশ, ও মনু মেথর। তাদের মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান, সাইফুলের হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রাতে হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালত ভবনের সামনে রঙ্গম সিনেমা হলের কাছে বান্ডিল রোডের সেবক কলোনি এলাকায় সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করছে। ভিডিওতে কয়েকজনের মাথায় হেলমেটও দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে মনে হয়, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী কিছু ব্যক্তি সাইফুলের নিথর দেহের উপর বেধড়ক হামলা চালাচ্ছিল।
ঘটনার আগে সাইফুলসহ কিছু আইনজীবী প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে বান্ডিল রোডে যান। সেখানে সশস্ত্র লোকজন তাদের ধাওয়া করে, ফলে সাইফুল হোঁচট খেয়ে পড়ে যান এবং বাকিরা প্রাণে বেঁচে যান। একজন প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী মো. হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সঙ্গে সংযুক্ত এক আসামি, সুমিত দাশের মা মুক্তা দাশ প্রথম আলোকে জানান, তার ছেলে সিটি করপোরেশনে সেবক হিসেবে কাজ করেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। তিনি দাবি করেন, সুমিতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য। অপরদিকে, নগরের কোতোয়ালি থানার সামনে গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজনদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়।
এদিকে, গত মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর চিন্ময়ের অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন, যা পুলিশ এবং বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আড়াই ঘণ্টা পর, বেলা তিনটার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।
তারিখ: ২৮.১১.২০২৪